Breaking News

‘বৃহত্তর জোট’ গঠনে তৎপর বিএনপি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন ও নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে। এজন্য সরকার বিরোধী সব রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘বৃহত্তর জোট’ গঠনে ফের তৎপর দলটি। বিশেষ করে সরকারের সমালোচনায় মুখর বাম ধারার রাজনৈতিক দলগুলোকেও বিএনপি এবার সঙ্গে রাখতে চায়। তিন সিনিয়র নেতাকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে অন্তত ১২ জন সাবেক ছাত্রনেতাও কাজ করছেন। তারা ইতোমধ্যে বাম দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন। বিএনপির একাধিক নীতি-নির্ধারকের কাছ থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

নতুন জোট গঠন নিয়ে নেতাদের দুই ধরনের মত রয়েছে। কেউ কেউ ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে দিয়ে সব দলকে নিয়ে বৃহত্তর জোট গঠনের কথা বলছেন। একই সঙ্গে দুই জোটে থাকা ছোট ছোট কয়েকটি দল বাদ দেয়ারও পক্ষে তারা। আবার অনেকে ২০ দল স্বতন্ত্র রেখে বাম দলগুলো নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের পরিধি বাড়ানোর পক্ষে। তবে এখনও এ বিষয়টি আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন জোটে আসার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এমনও হতে পারে, ‘বৃহত্তর জোট’ না বলে ‘বৃহত্তর ঐক্যজোটও’ নামকরণ করা হতে পারে। জোটের রূপরেখা নির্ধারণে শিগগিরই বৈঠকে বসবেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দুই জোটের বাইরের বেশ কয়েকটি বাম দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়ার শর্তে বৃহত্তর জোটে যেতে রাজি বলে বিএনপিকে জানিয়েছেন। ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের দু-একটি ছাড়া বাকি সব রাজনৈতিক দলও জামায়াতকে জোটে না রাখার পক্ষে। সে কারণে বৃহত্তর জোট গঠনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে ছাড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণের চিন্তাভাবনা চলছে। এ ধরনের স্বৈরাচারকে হটাতে হলে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

সেটা কি ফরমেটে হবে এসব সময়ের ব্যাপার। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নিরপেক্ষ নির্বাচন ইত্যাদি বলতে গেলে একটার সঙ্গে আরেকটা জড়িত। আমরা চার্টার তৈরি করব, সেখানে মিনিমাম কিছু দফা একসঙ্গে থাকবে। এর আগে ২০ দল, ঐক্যফ্রন্ট, বাম দলসহ অন্য ছোট-বড় যেসব দল আছে তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করব। একই ফর্মুলায় যারাই আসবে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা আছে। একই প্ল্যাটফর্মে এসেও আন্দোলন করা হয়, আবার যুগপৎ- এও করা যায়। জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের ব্যাপারে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

যখন ওই প্রক্রিয়ায় আলাপ-আলোচনা হবে তখনই তো এগুলো আসবে। এ ইস্যুটি মীমাংসা করেই তো ঐক্যবদ্ধ একটা একমতের চার্টার হবে। এর ভিত্তিতেই আন্দোলন হবে।

সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, জোট গঠনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা আলোচনা শুরু করেছি। জোট কেমন ও কোন পদ্ধতিতে করা হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যসহ আরও কয়েকটি দল নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিএনপি। ২০ দলীয় জোট আলাদা রেখেই এ ফ্রন্ট করা হয়। নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর ঐক্যফ্রন্ট গঠন নিয়ে দলের ভেতরে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ২০ দলের শরিকরা এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। গত বছরের শুরুর দিকে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে কয়েকটি কর্মসূচি পালন করা হলেও পরে আর কোনো তৎপরতা দেখা দেয়নি। নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটও অনেকটা নিষ্ক্রিয়। এর মধ্যে আবার মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে দুই জোটের সঙ্গে তেমন বৈঠকও হয়নি। এমন অবস্থায় ফের বৃহত্তর জোট গঠন নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি। নেতাদের দাবি, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রমাণ করতে পেরেছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু সম্ভব নয়।

দলীয় সূত্র জানায়, নতুন জোট করে তারা নির্বাচন পুনর্গঠন ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানাবেন। যেটিকে তারা আগাম নির্বাচনও বলতে পারেন। অবশ্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা গত নির্বাচন যেটা হয়েছে সেটাই তো মানছি না। ওইটাকে অবৈধ বলছি, আমরা ওই ভোট বাতিল করার কথা বলছি। আমরা বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। যে কারণে আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলে এসেছি, এটাতে আমরা বিশ্বাস করি।

সূত্র জানায়, বৃহত্তর জোট গঠনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদেরও মত রয়েছে। তবে এ নিয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে এখনও কথা বলেনিন বিএনপি নেতারা। এক নেতা বলেছেন, জোট গঠনের প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক অবস্থায় আছে। বিরোধী সব দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে। তাদের মতামত জানার পর এ বিষয়ে দলীয় ফোরামসহ ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে অলোচনা করা হবে। সবার মতামত নিয়েই বৃহত্তর জোট গঠন করা হবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক যুগান্তরকে বলেন, আমাদের পার্টি বা বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ হয়নি। তারা (বিএনপি) কথা বলতে চাইলে নিশ্চয় আমরা বলব। একমাত্র চিহ্নিত জঙ্গিবাদী বা মৌলবাদী এসব দল ছাড়া বাকি গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে নিশ্চয়ই একটা আন্দোলনের ঐক্য গড়ে তোলা দরকার। সে লক্ষ্যে ভবিষ্যতে অবশ্যই আলাপ-আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা এককভাবে এ সরকারকে মোকাবেলা করতে পারব না। জনগণের প্রত্যাশা সব গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক দেশপ্রেমিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি সবাই রাজপথে নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে ঐক্য গড়ে উঠবে। তেমন যদি হয় আমার দল বা আমাদের বাম গণতান্ত্রিক জোট রাজপথে আছি। এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা হতে পারে।

Check Also

Following consecutive remands; Jamaat leaders were sent to jail

The Jamaat leaders, who were arrested from an organizational meeting on last 6th September, were …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *