invention creative writing will writing service worthing creative writing organisations linkedin profile writing service sydney ucla creative writing phd creative writing program iowa university creative writing workshop greece creative writing about sisters research creative writing does snapchat do your homework brainly homework help & solver apk phd creative writing online uk creative writing mental illness creative writing on time management glasgow uni creative writing smile description creative writing creative writing learners material california creative writing programs www resume writing service com ready made application letter que es you help me with my homework doing my homework drawing que significa to do your homework rainforests primary homework help we need homework in order to learn job prospects creative writing automatic research paper writer the blitz facts homework help primary homework help types of mountains creative writing jobs in new york primary homework help 5ks paypal research paper creative writing prompts imagery types of volcanoes primary homework help creative writing muswell hill creative writing dogs jobs for creative writing teachers ma creative writing swansea college essay written about costco weekly creative writing challenge when your teacher says do your essay will writing service hong kong creative writing if i was a famous artist creative writing character description description of glasses creative writing theme park creative writing film clips for creative writing creative writing pictures humss creative writing cg english lit and creative writing personal statement how essay writing help master's degree homework help essay writing services in the united states describing a handsome man in creative writing wooden floor creative writing pay for college admission essay creative writing ppt ks3 creative writing about power ma creative writing university of leeds creative writing angel card meaning thesis student loan written off creative writing starting points persuasive essay writer professional business plan writers near me writing service linux get around to doing homework traduccion i hope you do your homework photos of homework help creative writing aufbau ocad bfa creative writing creative writing scheme of work ma creative writing glasgow will writing service north shields lausd homework help alexa helps kid with homework creative writing celebration average gre scores creative writing mfa are essay writing services worth it military homework help cv writing service peterborough forgot to do my homework homework help 3-24 creative writing dudley traduccion are you doing homework best canadian resume writing service creative writing of sleeping up diliman creative writing workshop creative writing jobs ireland creative writing 150 words creative writing prompts for recovery program in creative writing princeton creative writing ocean how to make creative writing flow the best creative writing activities essay proofreading and editing biology homework help slader good effects of doing homework things to avoid in creative writing seton hill university creative writing mfa tulsa creative writing
Breaking News

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করেছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এসব প্রতিশ্রুতির কয়েকটি নিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে আলোচনা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা, মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ ইত্যাদি।

২০১৬ সালের ওই নির্বাচনের পর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের চার বছর কেটে গেছে। তো এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে কতটা সফল হয়েছেন তিনি? কর হ্রাস – পূরণ করেছেন। নির্বাচনের আগে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট কর এবং কর্মজীবী নাগরিকদের বড় ধরনের কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কী করেছেন : রিপাবলিকানদের কর পরিকল্পনা পাস হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। এর মাধ্যমে তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন ঠিকই কিন্তু এটি নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। মি. ট্রাম্প কর্পোরেট ট্যাক্স ৩৫% থেকে কমিয়ে ১৫% শতাংশ করার কথা বলেছিলেন কিন্তু সেটা হয়েছে ২১%।

কর্মজীবী নাগরিকদের করও হ্রাস করা হয়েছে। তবে যে সবারই কমানো হয়েছে তা নয়। এতে ধনীদের তুলনায় দরিদ্ররাই বেশি লাভবান হয়েছেন। তবে যেসব রাজ্যে ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থন বেশি সেরকম বেশিরভাগ রাজ্যে উচ্চ আয়ের লোকজনের কর বেড়ে গেছে।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি – পূরণ করেছেন। নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ুর পরিবর্তনকে ভুয়া বলে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন প্যারিস চুক্তিতে যেসব শর্তের কথা বলা হয়েছে সেগুলো আমেরিকার অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

কী করেছেন : এই চুক্তির বিরুদ্ধে তিনি দিনের পর দিন আক্রমণ চালিয়েছেন। প্রায় দুশোটি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি প্যারিস চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে ৪ নভেম্বর, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক এক দিন পরে।

ইসলামিক স্টেটের ওপর বোমা হামলা – পূরণ করেছেন। আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ইসলামিক স্টেটের ওপর তিনি এমন বোমা হামলা চালাতে চান যাতে চরমপন্থী এই গ্রুপটি ধ্বংস হয়ে যায়।

কী করেছেন : প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আফগানিস্তানের ইসলামিক স্টেটের একটি ঘাটির ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন। ইরাক ও সিরিয়া থেকে আইএসকে বিতাড়িত করার ব্যাপারেও তিনি কৃতিত্ব দাবি করেন। তিনি বলেছেন আইএস মোটামুটি পরাজিত হয়েছে। তবে এই এই প্রক্রিয়া বারাক ওবামার শাসনামলেই শুরু হয়েছিল।

আইএসের নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডোদের চালানো এক অভিযানের সময় আত্মহত্যা করেন। ইসরাইলে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর – পূরণ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প ইসরাইলে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। ফিলিস্তিন ও ইসরাইল এই শহরটিকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে।

কী করেছেন : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৭ সালে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। একই সাথে মার্কিন দূতাবাসও তিনি নেয়ার কথা বলেন। ২০১৮ সালের মে মাসে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকীতে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলা হয়। দূতাবাসের জন্য সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তও অনুমোদিত হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এবছরের কোনো এক সময়ে এই কাজ শুরু হবে।

সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনা – আংশিক পূরণ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্যদের ফিরিয়ে আনা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ দিনের দাবি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেছেন, এই অঞ্চল পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন, সেখানে যে হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করা হয়েছে সেটা যুক্তরাষ্ট্রে করা হলে অনেক ভালো হতো। ২০১৩ সালে এক টুইটে তিনি বলেছিলেন, ‘যেসব আফগানকে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি তারা আমাদের সৈন্যদের হত্যা করছে। সেখানে আমরা কোটি কোটি ডলারের অপচয় করেছি।’ একই বছরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ার যুদ্ধ থেকে বাইরে রাখার কথাও বলেছিলেন।

কী করেছেন : ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আফগানিস্তানে আরো ৩ হাজার সৈন্য মোতায়েনের কথা ঘোষণা করে। তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। সিরিয়াতে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের নেতৃত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাতে অংশ নিয়েছে ২ হাজার মার্কিন সৈন্য।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন। তবে এখনও সেখানে ৫০০ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে আরো সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বলেছেন। ইতোমধ্যে তাদের সংখ্যা ১৩ হাজার থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৮ হাজার ৬০০।

একই সাথে তালেবানের সাথে শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হলে ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সকল সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো সম্মত হয়েছে। সৈন্য প্রত্যাহারের এসব সিদ্ধান্ত তার নিজের প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সমালোচনা করেছেন। সিরিয়া থেকে সৈন্যদের দেশে নিয়ে আসার কথা ঘোষণা করার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস মাতিস পদত্যাগ করেন।

বাণিজ্য চুক্তি – আংশিক পূরণ হয়েছে: প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প নাফটা চুক্তিকে বিপর্যয়কর বলে উল্লেখ করেছিলেন। টিপিপি চুক্তির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার।

কী করেছেন : ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বা টিপিপি চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। পরে তিনি বলেন, তাকে ভালো কিছু দেয়া হলে তিনি এই চুক্তিতে আবারো যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে আলোচনার পর এই তিনটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নাফটা চুক্তির পরিবর্তে এই চুক্তিটি কাজ করবে। অবশ্য পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা পরস্পরের বিরুদ্ধে অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি করেছে। কিন্তু এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র চীনের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। দুটো দেশই এক অপরের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। এই উত্তেজনা সত্ত্বেও দুটো দেশ ফেজ ওয়ান নামে একটি চুক্তি করেছে যার ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ কিছুটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুসলিমদের ওপর নিষেধাজ্ঞা – আংশিক পূরণ হয়েছে: ট্রাম্প শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে সকল মুসলিমের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

কী করেছেন : প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দুটো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন যা পরে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কিন্তু তৃতীয় আরেকটি নিষেধাজ্ঞার তেমন অসুবিধা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছয়টি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন সেটা কার্যকর হতে পারে। তবে এটিরও চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি।

বর্তমানে যেসব দেশ থেকে লোকজনের আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে সেগুলো হচ্ছে : ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, ভেনেজুয়েলা এবং উত্তর কোরিয়া। জানুয়ারি মাসে আরো ছয়টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় : নাইজেরিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, তানজানিয়া, কিরগিজস্তান এবং মিয়ানমার।

কিউবার সাথে সম্পর্ক – আংশিক পূরণ হয়েছে: নির্বাচিত হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন কিউবার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও বাণিজ্যের ব্যাপারে বারাক ওবামার উদ্যোগ তিনি বাতিল করে দেবেন।

কী করেছেন : প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মায়ামিতে তিনি বলেছিলেন, ‘ওবামা প্রশাসনের এক-পাক্ষিক সমঝোতা’ তিনি বাতিল করে দেবেন। ২০১৭ সালে তিনি বাণিজ্য ও ভ্রমণের ওপর কিছু বিধি-নিষেধ নতুন করে আরোপ করেন যা বারাক ওবামা তুলে নিয়েছিলেন। হাভানাতে দূতাবাস রেখে দিয়েছেন ট্রাম্প কিন্তু সেখানে কোন রাষ্ট্রদূতের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

দুটো দেশের মধ্যে কিছু কিছু ভ্রমণ এখনও চালু রয়েছে। তবে এমাসে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে তারা দুটো দেশের মধ্যে ব্যক্তিগত বিমানের ফ্লাইট অক্টোবর থেকে স্থগিত করবে।

ওবামাকেয়ার – আংশিক পূরণ হয়েছে: ট্রাম্পের যেসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথাবার্তা হয়েছে তার একটি ওবামাকেয়ার। তার পূর্বসূরি বারাক ওবামা জনগণকে স্বাস্থ্য-বীমার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে এই আইন তৈরি করেছিলেন যা ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত। ট্রাম্প বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি এটা বাতিল করে দেবেন।

কী করেছেন : রিপাবলিকানরা এই উদ্যোগকে অপছন্দ করেন। কিন্তু এই আইন বাতিল বা সংস্কার করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আইনের কিছু কিছু পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। আইনটি এখনো বলবত রয়েছে। এর বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে এবং ধারণা করা হচ্ছে ২০২১ সালের কোনো এক সময়ে এবিষয়ে রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর – আংশিক পূরণ হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে তার একটি ছিল মেক্সিকোর সাথে সীমান্তে দেয়াল তুলে দেয়া। তিনি এও বলেছিলেন যে, এই প্রাচীর নির্মাণে প্রয়োজনীয় খরচ দেবে মেক্সিকো।

কী করেছেন : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি মেক্সিকো। এবং পরে ট্রাম্পও এবিষয়ে খুব বেশি সোচ্চার হননি। ডেমোক্র্যাট দল এই পরিকল্পনার ঘোরতর বিরোধী। কিছু কিছু রিপাবলিকানও এই ঘোষণা থেকে বেকে বসেছেন। ট্রাম্প এজন্য ৫০০ কোটি ডলার চেয়েছিলেন যার বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাটরা। পরে তিনি প্রতিরক্ষাসহ আরো কিছু খাতের বরাদ্দ প্রাচীর নির্মাণের খাতে নিয়ে আসেন। এর বিরুদ্ধেও আইনগত চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

এবছরের মে মাস পর্যন্ত ১৯৪ মাইল দীর্ঘ প্রাচীর তোলা হয়েছে। তবে এর বেশিরভাগই তোলা হয়েছে আগের ভগ্নপ্রায় দেয়াল ঠিক করতে গিয়ে যা আগে থেকেই সেখানে ছিল। একবারে নতুন নির্মিত হয়েছে তিন মাইল।

অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার – অগ্রগতি নেই: ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে যারা অবৈধভাবে বসবাস করে তাদেরকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। দেশটিতে এরকম অভিবাসীর সংখ্যা এক কোটি ১৩ লাখ।

কী করেছেন : নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তার গলার স্বর নরম হতে থাকে। নির্বাচিত হওয়ার পর এই সংখ্যাকে তিনি ২০ থেকে ৩০ লাখে নামিয়ে আনেন। তিনি বলেন, ‘যারা অপরাধী এবং যাদের অপরাধ করার রেকর্ড রয়েছে, যারা অপরাধী চক্রের সদস্য, মাদক কারবারি’ তাদেরকে বের করে দেয়া হবে।

গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে মোট ২ লাখ ৬৭ হাজার জনকে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে যা তার আগের বছরের তুলনায় সামান্য কিছু বেশি। ওবামা প্রশাসনের আমলে ২০১২ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে (৪ লাখ ১০ হাজার) যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

অভিবাসন সংক্রান্ত আইন সংস্কারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে যায়। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আগত ৬ লাখ ৫০ হাজার জন অভিবাসীকে যে আইনে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে সেটি বাতিল করতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ বাতিল করে দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ – পূরণ করেছেন: নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি বিচারক খুঁজছেন এবং এরকম ২০ জনকে তিনি খুঁজে পেয়েছেন যারা দ্বিতীয় সংশোধনীকে সম্মান করবে। কী করেছেন : তিনি দুজন বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন- নীল গরসাচ এবং ব্রেট কাভানা। গরসাচকে নিয়োগ দিতে সিনেটের আইনে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। তবে কাভানার নিয়োগ নিয়ে অনেক বেশি বিতর্ক হয়েছে।

কাভানার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল যা তিনি অস্বীকার করেছেন। পরে তিনি ৫০-৪৮ ভোটে নিয়োগ লাভ করেন। ১৮৮১ সালের পর এতো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনো হয়নি। এছাড়াও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিম্ন আদালতগুলোতে ২০০ রক্ষণশীল বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন।

নেটো ত্যাগ – বাতিল: ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক জোট নেটোর উদ্দেশ্য নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলছেন এই জোট ‘সেকেলে’ হয়ে গেছে। নেটোর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছে কিনা এবং তারা প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিচ্ছে কিনা এসব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এবং এবিষয়ে তিনি বরাবরই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কী করেছেন : নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে নেটোর মহাসচিবকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেসময় তিনি তাকে বলেছিলেন, এই জোটের গুরুত্ব কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘এটি এখন আর সেকেলে নয়।’

ওই বছরের জুলাই মাসে নেটোর সম্মেলনের প্রতি পুনরায় তার সমর্থনের কথা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, মিত্র দেশগুলো বাজেটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না দিলে যুক্তরাষ্ট্র এই জোট ছেড়ে চলে যেতে পারে। তিনি বলেন, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো যথেষ্ট পরিমাণে খরচ করছে না। অতি সম্প্রতি তিনি বলেছেন, জার্মানি থেকে ১২ হাজার সৈন্য ফিরিয়ে আনা হবে।

নির্যাতন – বাতিল: ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে পানিতে মুখ ডুবিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের যে কৌশল তাতে তিনি অনুমোদন দেবেন। এই কৌশল ওয়াটারবোর্ডিং নামে পরিচিত। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘নির্যাতনে কাজ হয়।’

কী করেছেন : নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তার এই পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস মাতিস এবং সিআইএর তৎকালীন পরিচালক মাইক পম্পেও (বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।

হিলারি ক্লিনটনের বিচার – বাতিল: হিলারি ক্লিনটন যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তখন তার ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহারের অভিযোগে তার বিচার করার কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন নির্বাচিত হলে তিনি তাকে জেলে পাঠাবেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।

যা করেছেন : নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথেই এবিষয়ে তিনি তার সুর পরিবর্তন করে ফেলেন। যাকে তিনি একসময় ‘জঘন্য নারী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন পরে তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আগে তিনি এ সম্পর্কে খুব বেশি চিন্তা ভাবনা করেননি।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য তার কাছে আরো কিছু বিষয় আছে। সূত্র: বিবিসি

Check Also

ইসরাইলের চেলসিকে হারিয়ে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন ‘বাংলাদেশের’ হামজা

করোনা মহামারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এফএ কাপের ফাইনালে ফিরেছে দর্শক। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে গ্যালারিপূর্ণ কয়েক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *