Breaking News
Home / জাতীয় / আল্লাহর বিধানের দিকে ফিরলেই বিশ্বটা মানবিক ও শান্তিময় হবে

আল্লাহর বিধানের দিকে ফিরলেই বিশ্বটা মানবিক ও শান্তিময় হবে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, মানুষ যদি সত্যিকার অর্থে মহান আল্লাহ তায়ালার বিধানের দিকে ফিরে আসে, তাহলে করোনা-পরবর্তী বিশ্ব একটা শান্তিময় মানবিক বিশ্বে পরিণত হতে পারে।

আমীরে জামায়াত বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, দেশবাসী যেন অধিকার সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব সচেতনও হন। নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আপসহীন ও ধারাবাহিক প্রয়াস চালানোর পাশাপাশি পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীল, দরদি ও সহযোগিতামূলক আচরণ করেন।

সর্বোপরি আসমান ও জমিনের মালিক মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ তায়ালার দরবারে নিজেদের ভুলত্রুটির কথা স্মরণ করে ক্ষমা প্রার্থনা এবং এই বিপদ উত্তরণে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের ক্ষমা করুন এবং তার একান্ত দয়ায় আমাদের কাছ থেকে এ বিপদকে সরিয়ে দিন।

দেশের বৃহত্তর ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান দেশের জনপ্রিয় ও সর্বাধিক প্রচারিত সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাপ্তাহিক সোনার বাংলার বার্তা সম্পাদক ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া। সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে তুলে ধরা হলো-

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষ; বিশেষ করে পুরো মানবজাতি করোনা ভাইরাস তথা কোভিড-১৯-এ সংক্রমণের কারণে এক মহাসঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

আমীরে জামায়াত : যুগে যুগে এ ধরনের সঙ্কট অতীতেও মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পরীক্ষা কিংবা শাস্তি আকারে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীজুড়ে এ ধরনের ভয়বহ সঙ্কট ইতঃপূর্বে লক্ষ করা যায়নি। কিন্তু কেন? তার উত্তর আমরা কুরআনুল কারীমে খুঁজে পাই। সূরা রূমের ৪১নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যার ফলে তাদেরকে তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ আস্বাদন করানো যায়। হয়তো তারা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসবে।’

বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা লক্ষ করব- অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সর্বত্রই মানুষের ওপর মানুষের জুলুম, দেশের অভ্যন্তরে এবং এক দেশের ওপর অন্য দেশের জুলুম-অত্যাচার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তুচ্ছ ঘটনায় দুনিয়ার বলবান দেশগুলো দুর্বল দেশ ও জাতি-গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে লাখ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করছে, লুণ্ঠিত হচ্ছে মা-বোনদের ইজ্জত এবং অসংখ্য বনি আদম আজীবনের তরে পঙ্গুত্ববরণ করছে। লাখ লাখ বনি আদম ভিটামাটি হারিয়ে নিজ দেশ থেকে অজানার উদ্দেশে হিজরত করতে বাধ্য হচ্ছে।

এসবই দুনিয়ায় চলমান জুলুমের বাস্তব চিত্র। এমনকি এ ধরনের একটি সঙ্কটময় পরিস্থিতিতেও অপকর্ম ও দুর্বৃত্তপনা থেমে নেই। আল্লাহ তায়ালা এ ধরনের বিপদ-আপদ ও পরীক্ষা দিয়ে মানবজাতিকে অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন থেকে ন্যায় এবং সত্যের দিকে, তাঁর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে আনতে চান। আল্লাহ তায়ালা বিশ্ববাসীকে নিজ নিজ ভুলগুলো বুঝে তা শুধরে নেয়ার শক্তি দান করুন। মানুষ যদি সত্যিকার অর্থে মহান আল্লাহ তায়ালার বিধানের দিকে ফিরে আসে, তাহলে করোনা-পরবর্তী বিশ্ব একটা শান্তিময় মানবিক বিশ্বে পরিণত হতে পারে।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিভিন্ন গাইডলাইন দিচ্ছে। এসব গাইডলাইন পালন করা নিয়ে আপনার মতামত কী?

আমীরে জামায়াত : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপরে করোনা প্যান্ডেমিকের মহাসঙ্কটকালে ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। যথাযথ তথ্য-উপাত্ত, গবেষণা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে জাতি-রাষ্ট্রগুলোকে সময় সময় উপযুক্ত পরামর্শ ও গাইডলাইন দেয়া তাদের কর্তব্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সেরকম গাইডলাইন দিয়ে থাকলেও মাঝেমধ্যে এর ব্যতিক্রমও লক্ষ করা যায়। যেমন এখন পর্যন্ত করোনা চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত কোনো ওষুধ উৎপাদন হয়নি। কোনো একটি ওষুধকে একবার উপকারী হিসেবে বর্ণনা করে পরবর্তীতে ঠিক বিপরীত মত দিতেও দেখা যাচ্ছে। এরূপ ফেইস মাস্ক ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও মত পাল্টাতে দেখা গেছে। এসব বিষয়ে আরো অধিক সতর্ক হলে ভালো হতো। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্বের সব মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর এ উদ্যোগ WHO-এর নেয়া প্রয়োজন।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশসহ অনেক দেশ হু’র গাইডলাইন অনুযায়ীই নানারকম কর্মসূচি নিয়েছে। এসব কর্মসূচির কারণে তারা সুফল পেয়েছে এবং কোনো কোনো দেশ অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করেছে। তা কি বাংলাদেশে করা হচ্ছে?

আমীরে জামায়াত : বাংলাদেশে তা বহুলাংশেই করা হচ্ছে না। যেমন সামাজিক দূরত্ব, স্যানিটাইজারের যৌক্তিক ব্যবহার, সংক্রমিত ব্যক্তিকে যথাযথ আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়নি। অধিকন্তু সীমাহীন দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং সমন্বয়হীনতায় আজ স্বাস্থ্যসেবা বিধ্বস্ত। মানুষ পরীক্ষা করাতে গিয়ে রাস্তায়ই জীবন দিচ্ছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা ন্যূনতম চিকিৎসা পাওয়ার আশায় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে হন্যে হয়ে ছোটাছুটি করছে। রাস্তায় কিংবা যানবাহনে সামান্য একটু স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে তাদের দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অদক্ষতা, দায়িত্বহীনতা এবং সমন্বয়হীনতা পরিস্থিতির গোড়ার দিক থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত বহাল আছে।

দিকে বহুল আক্রান্ত বিশ্বের অনেক দেশ থেকে প্রবাসীরা যখন বাংলাদেশে ফিরলেন, তখন যথাযথ পরীক্ষা করা, কোয়ারেন্টিনে নেয়াসহ কোনো সতর্কতাই সরকার অবলম্বন করেনি। পরবর্তীতে সারা দেশে যখন কমবেশি সামাজিক সংক্রমণ লক্ষ করা গেল, তখন রাজধানী ঢাকায় হাতেগোনা কয়টা প্রতিষ্ঠানে টেস্টের একান্ত অপ্রতুল ব্যবস্থা করা হলেও সারা দেশে কিছুই করা হয়নি। করোনা সংক্রমণ যখন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছিল, তখন গার্মেন্ট খুলে দেয়ার নামে সারা দেশ থেকে শ্রমিকদের কোনোরকম কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শিল্পাঞ্চলে নিয়ে আসা হলো। সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কোনো পরিকল্পনা ও সুরক্ষা ছাড়াই কোটি কোটি মানুষকে দেশের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতের অবাধ সুযোগ দেয়া হলো। এসবই ছিল দায়িত্বহীন আচরণ। ফলে আজকে সারা দেশ করোনায় সংক্রমিত হয়েছে।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকার টেকনিক্যালসহ বেশ কয়েকটি কমিটি করেছে। সরকার অনেক ক্ষেত্রেই টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারছে না। যার কারণে সংক্রমণের মাত্রা কমছে না। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

আমীরে জামায়াত : সরকার যেসব কমিটি করেছে, কার্যত সরকারই তাদের অকার্যকর করে রেখেছে। নির্বাহী বিভাগ এবং এসব কমিটির মধ্যে কোনো সমন্বয় লক্ষ করা যায়নি। টেকনিক্যাল কমিটির মতামতকে কোনো গুরুত্বই দেয়া হয়নি। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে হু ঘরে থাকার ব্যাপারে বেশি জোর দিচ্ছে। এতে করে অধিকাংশ কর্মক্ষম ব্যক্তির আর্থিক কর্মকা- বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখানে তার জীবিকা সন্ধানের কাজ হুমকিতে পড়ছে। এ ব্যাপারে তথা জীবন ও জীবিকার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

আমীরে জামায়াত : এ ব্যাপারে সরকারের দায়িত্ব ছিল অন্যান্য দেশের মতো জনগণের প্রতি মানবিক হয়ে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আপদ উত্তরণে ঢেলে সাজানো। এ ধরনের কোনো উদ্যোগ জনগণ লক্ষ করেনি।

এমনকি ২০২০-২১ অর্থবছরের ব্যাপক ঋণনির্ভর যে বাজেট সরকার গ্রহণ করেছে, তাতেও এ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। জাতি উদ্বেগের সাথে লক্ষ করল- সরকার সামান্য যেটুকু জনকল্যাণমূলক কাজের ঘোষণা দিয়েছিল, সরকারদলীয় লোকদের ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দুর্দশাগ্রস্ত জনগণ তার যথাযথ সুফল থেকে বঞ্চিত হলো।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : এ করোনা সঙ্কটকালে সরকার যে বাজেট দিয়েছে, তা কি সঙ্কট উত্তরণে যথাযথ বলে আপনি মনে করেন?

আমীরে জামায়াত : এ ব্যাপারে জামায়াত ইতঃপূর্বেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আমরা বলেছি, এখানে কৃষি খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি। বেসরকারি শিক্ষা খাত একেবারেই উপেক্ষিত। রেমিট্যান্সপ্রবাহকে সক্রিয় রাখা, রেমিট্যান্সযোদ্ধাখ্যাত প্রবাসীদের ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনাই দেয়া হয়নি। এছাড়া অন্যান্য খাত তো আছেই। সংসদে বাজেট পেশের আগেই কতিপয় অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা অনেকগুলো পরামর্শ দিলেও সরকার তা উপেক্ষা করেছে।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে?

আমীরে জামায়াত : সঙ্কটের সূচনা পর্বেই আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলাম-

সরকারকে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বক্তব্য প্রদান।
জনগণকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলার জন্য সারা দেশে সচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি করে লাখ লাখ কপি বিতরণ এবং সময় সময় সরকার ও জনগণের উদ্দেশে ভিডিও বক্তব্য ও বিবৃতি প্রদান। দেশের বিভিন্ন শহরে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সুরক্ষাসামগ্রী, স্যানিটাইজার, পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী, মাস্ক ইত্যাদি ব্যাপকভাবে জনগণের মধ্যে বিতরণ। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে ব্যাপক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা করানো এবং হাসপাতালে ভর্তির ব্যাপারে সক্রিয় সহায়তা প্রদান।

প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগণের কাছে (প্রায় ১০ লাখ পরিবারকে) ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো। পবিত্র রমজান মাসে দুর্দশাগ্রস্ত রোজাদার পরিবারসমূহের মধ্যে বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদান। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিবর্গের জানাজা ও দাফনে সক্রিয় অংশগ্রহণ। করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্লাজমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশব্যাপী এ রোগে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোয় তাৎক্ষণিক খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কি সরকারের মতো সব নাগরিকের সমস্যা সমাধানে কাজ করা সম্ভব?

আমীরে জামায়াত : এ ধরনের সঙ্কটকালে সঙ্কট উত্তরণের সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা মূলত সরকারেরই দায়িত্ব। তবে দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোরও যথেষ্ট করণীয় রয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন ছিল সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য। কিন্তু দুঃখজনক হলো, বার বার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও সরকার কোনো গুরুত্বই দেয়নি।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : দেশে বলতে গেলে এখন বিরোধী দল নিষিদ্ধ, প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন; এমনকি ত্রাণ তৎপরতায়ও বাধার অভিযোগ আছে। এ অবস্থা পরিবর্তনে বিরোধী দলগুলো কী করছে?

আমীরে জামায়াত : এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের কোনো আচরণই গণতান্ত্রিক নয়। কার্যত দেশের মানুষের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারই কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর পরিবর্তন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। অতীতে যেমন জনগণ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে এনেছে, আগামীতে ঠিক তাই হবে। জনগণ তাদের নাগরিক অধিকার দলন ও হরণের অধিকার কাউকে দেয়নি।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : আমাদের প্রতিবেশী ভারতসহ অনেক দেশের সরকার; এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মমতা সরকারও সর্বদলীয় বৈঠক করে একসাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে সঙ্কট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের দেশে দিন দিন দূরত্ব বাড়ছে। এর কারণ কী?

আমীরে জামায়াত : সংক্ষেপে বলতে গেলে সরকারের সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতার অভাবই এর মূল কারণ।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : জাতীয় ঐক্য ও সংহতি ছাড়া উন্নয়ন কি সম্ভব?

আমীরে জামায়াত : দেশ ও বিশ্ববাসী ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের নির্বাচনকে প্রত্যক্ষ করেছে। এই সরকারের জনগণের প্রতি তেমন কোনো দায়বদ্ধতা নেই। কাজেই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ছাড়া উন্নয়নের নামে জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনের উৎসব কেবল চলতেই পারে।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : সর্বোপরি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আপনার ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কী পরামর্শ।

আমীরে জামায়াত : আমরা মনে করি, বিশ্বের সব দেশ ও সরকারকে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ সঙ্কট উত্তরণে কার্যকর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ এবং ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করার মাধ্যমে বিশ^কে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে। ভ্যাকসিন ও ওষুধ আবিষ্কার, উৎপাদন, বিতরণ, সরবরাহ এবং বিপণনে সমতা ও সমন্বয় সাধন এবং প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ। আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ঢেলে সাজানো। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিশেষ সুবিধা প্রদান। পারস্পরিক হানাহানি, জেদ ও প্রতিশোধের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্ব নেতাদের শান্তিপূর্ণ ও মানবিক নতুন একটি বিশ্বগড়ার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। বিশ্ব মানবতার মুক্তির সনদ ইসলামের সুমহান আদর্শ বিশ্ববাসীকে এই কঠিন সময়ে সব গ্লানি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা : দেশবাসীর উদ্দেশে আপনার বক্তব্য কী?

আমীরে জামায়াত : দেশবাসীকে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি- তারা যেন অধিকার সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব সচেতনও হন। নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আপসহীন ও ধারাবাহিক প্রয়াস চালানোর পাশাপাশি পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীল, দরদি ও সহযোগিতামূলক আচরণ করেন। সর্বোপরি আসমান ও জমিনের মালিক মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ তায়ালার দরবারে নিজেদের ভুলত্রুটির কথা স্মরণ করে ক্ষমা প্রার্থনা এবং এই বিপদ উত্তরণে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের ক্ষমা করুন এবং তার একান্ত দয়ায় আমাদের কাছ থেকে এ বিপদকে সরিয়ে দিন। আমীন।

ডা. শফিকুর রহমানের জীবন বৃত্তান্ত: ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য নাম। এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান অন্যতম। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, যোগ্যতা, মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

জন্ম : জাতির এই সাহসী সন্তান ও প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ আবরু মিয়া এবং মাতার নাম খাতিরুন নেছা। ডা. শফিকুর রহমানরা তিন ভাই ও এক বোন। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

শিক্ষা ও ক্যারিয়ার : ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭৪ সালে স্থানীয় বরমচাল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ (বর্তমান এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।

রাজনৈতিক জীবন : বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ডা. শফিকুর রহমান। ১৯৭৭ সালে দীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়দীপ্ত কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। পরবর্তীতে এ সংগঠনের সিলেট মেডিকেল কলেজ শাখা সভাপতি এবং সিলেট শহর শাখা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের মাধ্যমে তিনি বৃহত্তর রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। এরপর সিলেট শহর, জেলা ও মহানগরী আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হয়ে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর রুকনগণের (সদস্য) প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে আমীর নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ২০২০-২২ কার্যকালের জন্য তিনি আমীরে জামায়াত হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে উল্লেখযোগ্য দায়িত্বসমূহ
১৯৮৫ : কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার নির্বাচিত সদস্য;
১৯৮৬-৮৮ : সিলেট জেলা সেক্রেটারি;
১৯৮৯-৯১ : সিলেট জেলা নায়েবে আমীর;
১৯৯১-৯৮ : সিলেট জেলা আমীর;
১৯৯৮ : কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য;
১৯৯৮-২০০৭ : সিলেট মহানগর আমীর;
২০১০ : সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল;
২০১১ : নির্বাহী পরিষদ সদস্য;
২০১১ : ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল;
২০১৬ : সেক্রেটারি জেনারেল;
২০১৯ : আমীরে জামায়াত।

পারিবারিক জীবন : ডা. শফিকুর রহমান ১৯৮৫ সালে ডা. আমিনা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. আমিনা বেগম অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। বড় মেয়ে এফসিপিএস (কার্ডিওলজি) অধ্যয়নরত এবং একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেজিস্ট্রারার হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে এমবিবিএস ও এমপিএইচ ডিগ্রি অর্জনের পর এখন একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। একমাত্র ছেলে এমবিবিএস ৫ম বর্ষে (শেষবর্ষ) অধ্যয়নতরত।

সামাজিক কাজ : জননেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রখ্যাত রাজনীতিবিদই নন, বরং তিনি একজন খ্যাতিমান সমাজসেবক, বলিষ্ঠ সংগঠক এবং সফল উদ্যোক্তা। তিনি একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। একনজরে আমরা ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক কাজের কিছু অংশ দেখব-

১. একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।
২. একটি হাইস্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন।
৩. একাধিক হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন।
৪. একটি কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন।
৫. একাধিক এতিমখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা।
৬. একাধিক দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা।
৭. কয়েকটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা।
৮. ছাত্রজীবনে মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী ক্লাব ‘পালস’ প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন।
৯. একাধিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা।
১০. সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের আজীবন সদস্য।
১১. বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য।
১২. বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) আজীবন সদস্য।
১৩. সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্য।

বিদেশ ভ্রমণ : ডা. শফিকুর রহমান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনারে যোগদানের জন্য যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, স্পেন, গ্রিস, তুরস্ক, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন্স, ব্রুনাই, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।

Check Also

তরুণ কবি আহমদ বাসিরের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ

তরুণ কবি আহমদ বাসির ১৮ নভেম্বর রাত ৯টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *