Breaking News

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে : জামায়াত

জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মোটা অংকের ঋণ নির্ভর বাজেট পেশ করেছেন সে সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী জনাব আ.হ.ম মোস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকার ঋণ নির্ভর ঘাটতি বাজেট পেশ করেছেন। বাজেটের শিরোনাম করা হয়েছে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা।’বলা হয়েছে এটি হবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবন রক্ষার বাজেট।

বাজেটে প্রদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ, আর বাজেট ঘাটতি হচ্ছে জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫.৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেট এবং প্রবৃদ্ধির হার বাস্তবতা বিবর্জিত ও কল্পনা নির্ভর। বাজেটে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট এডিপি ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৫ হাজার ১শত ৪৫ কোটি টাকা, রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকা, ব্যাংক ঋণ ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার ৯শত ৮০ কোটি টাকা- যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।

ঘাটতি ধরা হয়েছে ১লক্ষ ৯০হাজার কোটি টাকা। বাজেটের প্রায় ৩ ভাগের ১ভাগই ঋণ নির্ভর। এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই সরকারের নাভিশ্বাস উঠে যাবে। এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা আরো বৃদ্ধি পাবে। চলতি অর্থ বছরের ১১ মাসে সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন।

করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার ১৯টি প্যকেজে ১ লক্ষ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন- যা সরবরাহের দায়িত্ব মূলত ব্যাংকগুলোর। ব্যংকের উপর এমনিতেই তারল্য সংকট রয়েছে; বাজেটে ব্যাংক থেকে ৮৪ লাখ ৯ হাজার ৮০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ প্রস্তাবের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে আরো সংকটের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। সরকারের প্রস্তাবিত এ বাজেটে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা আরো ভেংগে পড়বে। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮.২ ; গত বছরও জিডিবি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮.২।

সেটা অর্জন করা সম্ভব না হওয়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সংশোধন করে তা ৫.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এটা নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্ব্ব্ব্যাংক এবারের প্রবৃদ্ধি ১.৬ শতাংশ এবং আগামী অর্থ বছরে তা কমে ১ শতাংশে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন-অর্থমন্ত্রী তা গোপন রেখে প্রবৃদ্ধি ৮.২ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা কাগুজে সক্ষমাত্রায় পরিণত করেছেন ও জাতিকে মিথ্যা আশারবাণী শুনিয়েছেন। বাস্তবে ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অসম্ভব।

জামায়াতের সেক্রটারী জেনারেল বলেন, করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত গোটা দেশ। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করছেন মানুষ। করোনায় আক্রান্ত রোগীরা এ হাসপাতাল থেকে সে হাসপাতাল ঘুরে শেষ পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরনের ঘটনাও ঘটছে। চিকিৎসা ব্যবস্হার এ ভঙুর পরিস্হিতিতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪১ হাজার ২৭কেটি টাকা- যা বাজেটের ৭.২ শতাংশ।

গোটা জাতি যখন অপর্যাপ্ত চিকিৎসা উপকরণ, দুর্বল ব্যবস্হাপনার কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত, তখন এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ মোটেই যথেষ্ট নয়। চলমান পরিস্হিতিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাজেটের ১০ শতাংশ হওয়া দরকার।

দারিদ্র দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় গুরুত্ব দিলেও এক্ষেত্রে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা বস্তবায়নের কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়নি। বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহ সকলের জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার গতানুগতিক বক্তব্য ছাড়া নতুন কোন ব্যবস্হার কথা বলা হয়নি।

তিনি বলন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। কৃষকরা বরাবরই তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়না। প্রস্তাবিত বাজেটে উৎপাদনের উপকরণের মূল্য হ্রাসের কোন কথা বলা হয়নি। বরং রাসায়নিক সারের গত বছরের মূল্যই বহাল রাখা হয়েছ। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত সহ কৃষিখাতকে যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে শিল্প খাত অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ সম্পৃক্ত। এ খাতকে প্রস্তাবিত বাজেটে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। করোনা ভাইরাসের কারণে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মহীন হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছে।

ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদান অস্বীকার্য। প্রবাসীদের মধ্যে যারা কর্মহারা হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করছেন তাদের পুনর্বাসনে বাজেটে কোন দিক নির্দেশনা নেই।

দুর্যোগ ব্যবস্হাপনায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার ৮ শত ৩৬ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় সুপার সাইক্লোন আমফানের কথা বললেও আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ টি জেলার রাস্তা-ঘাট-ব্রীজ-কালভার্ট-বেড়ীবাধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে কোন বরাদ্দের কথা বলেন নি।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, করমুক্ত আয়ের সীমা ৩লক্ষ টাকা রাখা হয়েছে। কয়েক বছর পর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হলো। করোনা ভাইরাস পরিস্হিতি ও বাস্তবতার নীরিখে করমুক্ত আয়ের সীমা অন্তত: ৪ লক্ষ টাকা হওয়া উচিত। মহিলাদের জন্য আয়মুক্ত করসীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা করা দরকার বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, সরকার গত বছর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫০ শতাংশ। এর আগে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বেচ্চ ৩০শতাংশ। স্বাভাবিক অবস্হায়ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৮-২০ শতাংশের ঘরে ছিল। করোনা কালে এটা ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রস্তাব অবাস্তব এবং এবারও তা অর্জন করতে পারবেনা।

তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিপুল সংখ্যক লোক কর্মহীন হয়ে পড়েছে, সেই সাথে দেশের কর্মক্ষম বেকার লোকদের সমখ্যা ত্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে ৯৫ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। কাজ হারিয়েছে ৬২ শতাংশ মানুষ। অথচ অর্থমন্ত্রী ১৪ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়েছে বলে তার বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য পেশ করেছেন। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থানের কোন দিক-নিদের্শনা প্রস্তাবিত বাজেটে নেই।

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে। মূলত দলীয় এবং দলীয় পছন্দের লোকদের কালো টাকার পাহাড়কে সাদা করার সুযোগ দেয়ার জন্য বাজেটে এ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি যারা অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জন করে কর ফাঁকি দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নিতি দমন কমিশনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্হা নেয়া দরকার।

জামায়াতের এ সেক্রেটারী জেনারেল বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি জাকাতের টাকার উপর কর আদায় করা হয়। আমরা জাকাতের টাকা করমুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করি।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শ্রমিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বাজেটে কোন বরাদ্দের কথা বলা হয়নি। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্য বীমার বিষয়ে বাজেটে ব্যবস্হা থাকা দরকার বলে আমরা মনে তরি।

তিনি বলেন, গত বছরের বাজেটও সরকার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এবারের প্রস্তাবিত বাজেট বস্তবায়ন নিয়েও সংশয় রয়েছে। সর্বোপরি করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর সুশাসন, সচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সকল স্তরে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই বলে আমরা মনে করি। সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট জনবান্ধব নয়। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সীমিত আয়ের বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থককে উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Check Also

Amnesty and HRW urge Bangladesh to immediate release Mir Ahmad, Amaan Azmi

Two human rights organizations – Amnesty International and Human Rights Watch – have urged Bangladesh …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *