Breaking News

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক চলছে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। মানুষের জীবন বাঁচাতে যখন লকডাউন, আইসোলেশন ও ঘরবন্দী থাকার কথা তখনই মৃত্যুদূত করোনাকে আমন্ত্রণ জানাতে জানালা-দরজা খুলে দিয়েছে সরকার।

একদিকে এই সংক্রমণে মৃত্যু ও আক্রান্তের সঠিক পরিসংখ্যান তো দিচ্ছেই না, অন্যদিকে এই ভাইরাসকে বিনা বাধায় ঝাঁক বেধে আক্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়া দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে রিজভী এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেহেতু রাতের নির্বাচনে গঠিত বর্তমান সরকার, তাই জনগণের ভাবনাকে তারা আমলে না নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।

গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সিদ্ধান্ত জনগণের অনুকূলে হবে না এটাই স্বাভাবিক। তারা নিজেদের টিকে থাকার স্বার্থে জনগণের জীবনবিনাশী সিদ্ধান্ত নিতে কুন্ঠাবোধ করে না। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ছুটি প্রত্যাহার করে করোনা ভাইরাসকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ২২ মে স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘প্রতিটি দেশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বীকৃত কোনো মেডিসিন আবিষ্কার হয়নি। এই অবস্থায় সব দেশই করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

প্রতিদিন বেশিসংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় এনে করোনা উপসর্গ থাকলে আগেভাগেই আইসোলেশনে নেয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণকেই অন্যতম সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সরকারের উচিত দেশে অগ্রাধিকারভিত্তিতে করোনা টেস্টের সক্ষমতা বাড়ানো।’

রিজভী বলেন, যেভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছে, সরকারের উচিত ছিল প্রতিটি জেলা-উপজেলায় করোনা টেস্ট ফ্যাসিলিটিজ নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটি না করে অফিস-আদালত, গণপরিবহন চালু করা যেন মৃত্যুর মিছিলকেই আলিঙ্গন করা।

মানুষের জীবন বাঁচাতে যখন লকডাউন, আইসোলেশন ও ঘরবন্দী থাকার কথা তখনই মৃত্যুদূত করোনাকে আমন্ত্রণ জানাতে জানালা-দরজা খুলে দিয়েছে সরকার। জীবনকে তুচ্ছ করে মানুষকে কর্মে লাগাতে চায় সরকার। দেশ-বিদেশের বিশেজ্ঞদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে সরকারের একগুঁয়েমিতে খুলে দেয়া হচ্ছে সবকিছু।

তিনি বলেন, চারিদিকে নিরন্ন মানুষের হাহাকার, বিপন্ন মানুষের আর্তনাদ ও চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষ গুমরে গুমরে কাঁদছে। এই হলো বর্তমানে দেশের অবস্থা। এই সরকারের আমলে দুর্নীতিতে সবকিছু খেয়ে ফেলেছে। স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছুই নেই বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে তুরস্কের একজন নাগরিক পরিবারসহ করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে তুরস্ক সরকার নিজ দেশে নিয়ে গেছে। এখানে ওই তুরস্ক নাগরিক করোনা টেস্ট পর্যন্ত করাতে পারেনি। সরকারী ও বেসরকারী কোনো হাসপাতালেই চিকিৎসা না পেয়ে সবাই সিএমএইচ এর দিকে ছুটছে।

যাদের সামর্থ্য নেই তাদের লাশ পড়ে থাকছে রাস্তাঘাটে। বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার চেয়ে নিশিরাতের সরকারের নেতা-মন্ত্রীদেরকে প্রতিদিন নিয়মিত বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেই বেশি উৎসাহিত মনে হচ্ছে।

প্রতিদিন বিএনপির কোনো না কোনো নেতাকে গুম অথবা মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। অপরদিকে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে যাতে কেউ এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও মত প্রকাশ করতে না পারে এ জন্যও চলছে গুম, হয়রানি ও জেল জুলুম। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক চলছে।

গত দুই মাসে সাংবাদিকসহ সোশ্যাল মিডিয়ার পাঁচ শতাধিক এ্যাক্টিভিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মানুষের জবান স্তব্ধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে সেল গঠন করা হয়েছে। রিজভী বলেন, আমরা সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলতে চাই, করোনা ভাইরাস শুধু র‌্যাব-পুলিশের মতো বিরোধী দল মতকে দমন করতেই আসেনি বরং

সরকার যেভাবে ঢিলেঢালাভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাইছে তাতে সকলেরই ভয়ের কারণ আছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের পক্ষে বিপক্ষে কে ‘লাইক কিংবা শেয়ার’ দিলো এগুলোর পেছনে সময় ব্যয় না করে কিভাবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় করা যায় সেটি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ ছিল।

যেভাবে এখন বাংলাদেশে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে তাতে ‘ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কমপক্ষে তিনগুন বেশি বন্দি থাকা কারাগারগুলো এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প’ এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস সংক্রমণের হটষ্পটে পরিণত হতে পারে।

Check Also

Following consecutive remands; Jamaat leaders were sent to jail

The Jamaat leaders, who were arrested from an organizational meeting on last 6th September, were …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *