Breaking News

মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করায় পুলিশে সোপর্দ!

‘মাদক বিক্রেতা ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করায়, আমার ছেলেটাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে ইয়াবা দিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি এর সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সালেহা খাতুন (৬৮) আজ সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠের কাছে পুত্রকে ফিরে পেতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে সন্ধ্যার পর থেকেই ফেসবুকে বেশ লেখালেখি হচ্ছে।

শিক্ষিকা সালেহা খাতুন কালের কণ্ঠকে জানান, তার ছেলে এম এস কে মাহাবুব (৪০) নবীনগর লেখক ফোরামের সঙ্গে জড়িত ও সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে নিয়মিত ফেসবুকে লেখালেখি করেন। বিশেষ করে নবীনগরের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধেই তিনি বেশি বেশি ফেসবুকে পোস্ট দেন। এতে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি মাহাবুবের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাহাবুবের ছোট বোন প্রাইমারি শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম মিলি বলেন, আজ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে একজন ছেলে আমার বড় ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পরেই দেখি তাকে কয়েকজন প্রচণ্ডভাবে মারতে মারতে একটি অটো রিকশায় তুলে। সেখানে স্থানীয় ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওলানা মেহেদীকেও আমার ভাইকে মারধর করতে দেখা যায়। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারি, মাওলানা মেহেদী ও তার লোকজন আমার ভাইকে সাত পিস ইয়াবাসহ পুলিশে সোপর্দ করে। শুধু তাই নয়, শুনেছি থানার ভেতরে পুলিশের ডিউটি কক্ষেও নাকি আমার ভাইকে প্রচণ্ড মারধর করে ওই মাওলানা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাহাবুবের একাধিক বন্ধু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সম্প্রতি এক বিতর্কিত মাওলানাকে নিয়ে মাহাবুব ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দেওয়ায় শুক্রবার মুঠোফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এরপর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আজ বিকেলে শুনি মাহাবুবকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে প্রচণ্ড মেরে ইয়াবাসহ পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ নবীনগর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট শিব শংকর দাস বলেন, থানার ভেতরে ডিউটি অফিসারের কক্ষে লেখক ফোরামের মাহাবুবকে মারধর করার ঘটনাটি আমিও শুনেছি। তাই পুরো ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিৎ।

তবে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওলানা মেহেদী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, নুরুল ইসলাম নামের এক ছেলের কাছে মাহাবুব মাদক বিক্রি করার সময় তাকে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দেয়। আমি বরং তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিরাপদে পৌঁছে দেই। ঘটনাস্থলে কিংবা থানায় তাকে আমার মারধর করার তো প্রশ্নই ওঠে না।

তবে মাওলানা মেহেদী জানান, ইদানিং মাওলানাদের ভণ্ড বলে পোস্ট দেওয়াসহ নানা বাজে কথা ফেসবুকে লিখায় অনেকেই তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলো। নবীনগর থানার ওসি রনোজিত রায় বলেন, সাত পিস ইয়াবাসহ ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ মাহাবুবকে থানায় ধরে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে ওসি জানান, থানার ভেতরে ডিউটি অফিসারের কক্ষে মারধর এবং ঘটনাটি পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক কি-না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।নবীনগর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে মাদকসহ মাহাবুবকে পাবলিক ধরে থানায় দিয়ে গেছে। তবে ছেলেটি মেধাবী। ভালো লেখেও।

কিন্তু শুনেছি মাদকাসক্ত। এরপরও বিষয়টি আমি দেখছি।কয়েক বছর আগে ডিবি পুলিশ সেজে চাঁদাবাজি ও মাদক কেনা বেচার অভিযোগে আরেকবার লেখক মাহাবুব গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেসময়েও তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণেই গ্রেপ্তার হন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন মাহাবুব।

Check Also

Police arrests Jamalpur district Ameer and 13 other party activists; Acting Secretary General of BJI condemns

Acting Secretary General of Bangladesh Jamaat-e-Islami Maulana ATM Masum has issued the following statement on …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *