Breaking News
Home / আইন-আদালত / যেভাবে নকল করোনা সার্টিফিকেট দিয়ে দেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতফেরত শিক্ষার্থীদের

যেভাবে নকল করোনা সার্টিফিকেট দিয়ে দেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতফেরত শিক্ষার্থীদের

ভারত থেকে কিছু বাংলাদেশী আসছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন এমন নকল সার্টিফিকেট নিয়ে। এদের বেশির ভাগই সেখানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ডেকে স্কলারশিপের অগ্রিম কিছু অর্থ দিয়ে পরীক্ষা না করেও করোনা আক্রান্ত নয় এমন সার্টিফিকেট দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এমন সার্টিফিকেটধারী শিক্ষার্থীদের বিমানবন্দরে কোনো প্রকার পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দেখেই বাড়িতে যেতে দিচ্ছে বলে জানা গেছে। দিল্লি থেকে আমাদের সংবাদদাতা রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, নয়া দিল্লিতে অবস্থিত সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে শতাধিক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

১২ মার্চ থেকে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি প্রশাসন বিভিন্ন কৌশলে শিক্ষার্থীদের দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সে জন্য শিক্ষার্থীদের দুই মাসের অগ্রিম স্কলারশিপের টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেশে ফেরার জন্য ই-মেইল করছে।

একটি ই-মেইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জানিয়েছে, ‘মেডিক্যাল অফিস থেকে তাদের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে’। প্রশাসন থেকে বলে দেয়া হচ্ছে, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করলে দেশে ফিরে কোনো শিক্ষার্থীকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেছে, এসব মেডিক্যাল সার্টিফিকেট কোনো ধরনের করোনা টেস্ট ছাড়াই দেয়া হচ্ছে।

সমাজবিজ্ঞানের মাস্টার্সের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তিনি বলেন, ‘আমি একটি এথিকস মেইনটেইন করি। মেডিক্যাল টেস্ট ছাড়া মেডিক্যাল সার্টিফিটিকে প্রদান অনৈতিক। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টকে এবিষয়ে ই-মেইল করে কোনো উত্তর পাইনি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ভুয়া সার্টিফিকেট বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।’ ২১ এপ্রিল ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দেখা যায়, ভারতের ৮০ ভাগ করোনা পজিটিভ কেস কোনো লক্ষণ ছাড়াই টেস্টে ধরা পড়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের করোনার সঙ্কটে হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন নাম্বারে বিষয়টির সুরাহার জন্য মেসেজ পাঠিয়ে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল দিল্লি থেকে একটি বিশেষ ফ্ল¬াইটে ঢাকায় আসেন বাংলাদেশের কিছু শিক্ষার্থী টেস্টবিহীন মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে। সার্টিফিকেট দেখে তাদের বাসায় যেতে দেয়া হয় বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি কিছু জানেন না। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কনট্রোল

রুমের সহকারী পরিচালক ডা: আয়েশা আখতার এ বিষয়ে বলেন, এটা ঠিক যে যাদের সার্টিফিকেট করোনা নেই এমন আছে তাদের বাড়ি যেতে দেয়া হচ্ছে। যাদের নেই তাদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। ফেক সার্টিফিকেটের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সার্টিফিকেট ফেক হতে পারে না। তবু বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বলবেন বলে জানালেন।’

Check Also

ভারতে তথ্য পাচার: ফের রিমান্ডে পুলিশ কনস্টেবল দেবপ্রসাদ

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে আটক পুলিশ কনস্টেবল দেবপ্রসাদ সাহার ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *