Breaking News
Home / বিশেষ সংবাদ / ১৭ হাসপাতাল প্রস্তুত নয়:করোনায় জটিল রোগীর চিকিৎসা

১৭ হাসপাতাল প্রস্তুত নয়:করোনায় জটিল রোগীর চিকিৎসা

ভেন্টিলেটর ১৮৩টি, আইসিইউ শয্যা ১৩৩টি * ৯০টি ভেন্টিলেটরের সঙ্গে নেই পেশেন্ট মনিটর * অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন ৮৫টি * পালস অক্সিমেটর ঘাটতি ৩৪টি * ডিহিউমিডিফায়ার ২৫ এল দরকার ৩০টি।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জটিল রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট ১৭ হাসপাতাল এখনও প্রস্তুত নয়। এসব হাসপাতালে শ্বাসকষ্টসহ করোনায় আক্রান্ত জটিল রোগীদের চিকিৎসায় ১৮৩টি ভেন্টিলেটর দেয়া হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) শয্যা আছে মাত্র ১৩৩টি। আইসিইউ পরিচালনা বা রোগীদের পরিচর্যায় নেই প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা নার্স।

৯০টি ভেন্টিলেটরের সঙ্গে নেই পেশেন্ট মনিটর। এমন প্রায় ১০ ধরনের অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। এগুলো ছাড়া আইসিইউ শয্যা এবং ভেন্টিলেটর অকার্যকর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ আক্রান্তদের জন্য ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ অত্যাবশ্যক। জনসংখ্যার অনুপাতে দেশে করোনা মোকাবেলায় কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার আইসিইউ ও ৫ হাজার ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা দরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত মোট রোগীর ৮০-৮২ শতাংশ সাধারণ চিকিৎসায়ই সুস্থ হয়ে ওঠেন। বাকি ১৮-২০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা নিতে হয় হাসপাতালে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ রোগীর জন্য প্রয়োজন হতে পারে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস বা ভেন্টিলেটর সুবিধা। আর জটিল ৫ শতাংশের জন্য লাগতে পারে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ।

জানা গেছে, সম্প্রতি দেশে করোনার জন্য ডেডিকেটেড ১৭টি হাসপাতালে ১৮৩টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর বরাদ্দ করা হয়েছে। অধিকাংশ হাসপাতালে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু আইসিইউ চালুর জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, মেডিকেল গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের প্রয়োজন জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এতে বলা হয়েছে, এই ১৭টি হাসপাতালে ১৮৩টি ভেন্টিলেটর মেশিন স্থাপন করা হলেও এখনও আইসিইউ শয্যা ঘাটতি রয়েছে ৫০টি। একইভাবে পেশেন্ট মনিটর ঘাটতি রয়েছে ৯০টি, পালস অক্সিমেটর ৩৪টি, এবিজি মেশিন উইথ গ্লুকোজ অ্যান্ড ল্যাকটেট ঘাটতি রয়েছে ১৭টি, ডিফেব্রিলেটর এক্সটারনালের ঘাটতি রয়েছে ২৮টি।

এসব ভেন্টিলেটর কার্যকর করতে ১২ চ্যানেলের ইসিজি মেশিন প্রয়োজন ৩০টি (প্রতি ইউনিটে ২টি করে), পোর্টেবল ভেন্টিলেটর দরকার ৩৪টি। এসব আইসিইউর তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ৫ টনের এসি দরকার ৩০টি, ডিহিউমিডিফায়ার ২৫ এল দরকার ৩০টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার দরকার ৮৫টি।

আইসিইউ এবং সিসিইউ বিশেষজ্ঞদের মতে, যে মেশিনগুলোর ঘাটতি রয়েছে সেগুলো ছাড়া একজন রোগীর নিবিড় পরিচর্যা সম্ভব নয়। যেমন এবিজি মেশিন উইথ গ্লুকোজ অ্যান্ড ল্যাকটেট দিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরের ইলেকট্রোলাইট (সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, এলবোমিন ইত্যাদি) পরিমাপ করা হয়।

এগুলোর যে কোনো একটির ঘাটতিতে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। পালস অক্সিমেটর দিয়ে রোগীর শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। কোনো রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ শতাংশের নিচে নামলে তাকে অবশ্যই অক্সিজেন দিতে হবে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীর যে কোনো সময় হৃদযন্ত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে এমনকি কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে।

এসব রোগীর হৃদযন্ত্র সচল রাখতে ডিফেব্রিলেটর এক্সটারনাল প্রয়োজন। আইসিইউর ভেতরের পরিবেশ জীবাণুমুক্ত রাখতে ডিহিউমিডিফায়ার প্রয়োজন। নয়তো ভেতরের বাতাস বাইরে বেরোতে পারবে না। ফলে আইসিইউর সব রোগী বিভিন্ন রোগে সংক্রমিত হবে। ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ সচল করতে যেসব যন্ত্র প্রয়োজন সেগুলো দ্রুত কেনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা

বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও মন্ত্রণালয়ের করোনা সংক্রান্ত ফোকাল পারসন মো. হাবিবুর রহমান খান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এ সংক্রান্ত চিঠি আমি দেখিনি। তবে কোনো কিছু প্রয়োজন থাকলে সেটি দ্রুত কেনা হবে। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আইসিইউ শয্যা দ্বিগুণ করেছি। ভেন্টিলেটর বাড়ানো হয়েছে। হাসপাতালগুলোর সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর কাজ চলছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব যুগান্তরকে বলেন, আইসিইউর প্রত্যেকটি শয্যায় শুধু একটি ভেন্টিলেটর থাকলেই হবে না। একজন রোগীর সুস্থতা নিশ্চিতে উপরের প্রত্যেকটি যন্ত্র আবশ্যিকভাবে দরকার। চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলবে না, তেমনি এসব মেশিন ছাড়া আইসিইউ রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়।

চিঠিতে যে ১৭টি হাসপাতালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হল : কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, মাতৃ-শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, গোপালগঞ্জ কোভিড হাসপাতাল, শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল-সিলেট, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল-বগুড়া, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, রংপুর শিশু হাসপাতাল, খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতাল, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-বরিশাল, এস কে হাসপাতাল-ময়মনসিংহ, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কোভিড-১৯ চিকিৎসায় এ মুহূর্তে দেশে মোট ১ হাজার ৫০টি আইসোলেশন বেড থাকলেও আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১৫০টির মতো। যদিও এর সব কটিতে নেই ভেন্টিলেটর সুবিধা। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা রোগীদের মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত থাকায় আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ক্রিটিক্যাল রোগীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়ার সুবিধা বা ভেন্টিলেশন জরুরি। কিন্তু নির্ধারিত হাসপাতালের সব কটিতে এসব সুবিধা নেই। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীর স্বল্পতা আছে। ভেন্টিলেশন, আইসিইউর ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩টি হাসপাতালে ৫৫টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও এসব আইসিইউ পরিচালনায় বা রোগীদের পরিচর্যায় নেই প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা নার্স।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় বলা আছে, হাসপাতালগুলোয় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোকে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ও কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল শাখার আপডেট তথ্য দেখা যায়, বর্তমানে রাজধানী ও এর বাইরের বিভিন্ন জেলার ৩৩টি হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটর রয়েছে ৩০০টি।

নতুন করে সরবরাহ করা হচ্ছে আরও ১৩৪টি, মেরামতযোগ্য ৪৩টি। এ ছাড়া বিতরণযোগ্য আইসিইউ ভেন্টিলেটর রয়েছে ১৮৯টি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্যকর রয়েছে ৩০টি, সরবরাহ করা হবে আরও ২৫টি। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে বিদ্যমান ৪টি সরবরাহ করা হবে ৫টি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে ৬টি,

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আছে ১০টি দেয়া হবে আরও ১২টি, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আছে ৯টি, দেয়া হয়েছে ১৬টি, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে ৮টি, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে আছে ২০টি, পঙ্গু হাসপাতালে আছে ৩টি, সরবরাহ করা হয়েছে ১২টি। এ ছাড়া জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে আছে ৩০টি। তবে সেগুলো শুধু হৃদরোগীদের জন্য। বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট হাসপাতালে আছে ১০টি।

Check Also

শমী কায়সারের স্বামী রেজা আমিনের পরিচয় নিয়ে এবার বেরিয়ে আসলো যে খবর!

২৭ সেপ্টেম্বর রেজা আমিন সুমনকে বিয়ে করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শমী কায়সার। ৯ অক্টোবর শমীর নিউ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *