Breaking News
Home / স্বাস্থ / এন৯৫ মাস্ক নেই : দেয়া হচ্ছে খেলনা গগলস!

এন৯৫ মাস্ক নেই : দেয়া হচ্ছে খেলনা গগলস!

দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সরকারি হিসেবের বাইরেও করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত ৯০ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও কোয়ারেন্টিনে রয়েছে তিন শতাধিক চিকিৎসক। সরকারের দেয়া পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) মান সম্মত না হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সরা আক্রান্ত হচ্ছেন এমনটিই মনে করেছেন তারা।

চিকিৎসকরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সব সাপ্লাই আছে বলা হলেও বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। হাসপাতালগুলোতে শপিং ব্যাগের কাপড়ের তৈরি নিন্ম মানের পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। যা কখনোই ভাইরাস প্রতিরোধী না। এ ছাড়া করোনার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে এন৯৫ মাস্ক যেখানে অপরিহার্য, সেখানেও টিস্যু কাপড়ের মাস্ক দেয়া হয়েছে। চোখের সুরক্ষার জন্য যে গগলস দেয়া হয়েছে তা চায়না থেকে আমদানি করা শিশুদের খেলনা গগলস ছাড়া কিছুই না।

জুতার কাভার না দেয়ার কারণে বাধ্য হয়ে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পলিথিন ব্যবহার করছেন আর সাথে গ্লাভস হিসেবে পলিথিনের গ্লাভস ব্যবহার করছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ সকল কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। তারা কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের কষ্টের কথা শেয়ার করছেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফায়সাল ইকবাল চৌধুরী তার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গলা ফাটাইয়া বলতে চাই, চট্টগ্রামের কোথাও ১টা এন৯৫ মাস্ক সরবরাহ করা হয়নি। গ্লাভস ও সঙ্কট। পিপিই মানসম্মত নয়।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডক্টরস ফেডারেশন (বিডিএফ) এর প্রধান সমন্বয়ক ডা: নিরুপম দাশ বলেন, চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই রোগীদের চিকিৎসা ও তাদের নিরাপত্তায় পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশান ইকুইপমেন্ট) দেয়ার দাবি করে আসছিল। যে ধরনের পিপিই সরবরাহ করা হচ্ছে তা মানসম্মত নয়। করোনার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে এন৯৫ মাস্ক সরবরাহ করা হয়নি। ফলে একের পর এক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমিত হচ্ছে।

ধর্মঘটে রমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা : পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং নিরাপত্তাসহ পাঁচ দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে রংপুর মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়ে কর্ম বিরতিতে যান ১১২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। দাবি আদায় না হলে কাজে যোগ দেবেন না বলেও জানান তারা। চিকিৎসকদের দাবি ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিলেও তাদের পিপিই এমনকি গ্লাভস, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে দেয়া হচ্ছে না।

এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানান ইন্টার্নরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক ডা: ফরিদুল ইসলাম জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি আবেদন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি। গণমাধ্যমে তথ্য না দিতে নার্সিং অধিদফতরের কড়া নির্দেশনা : গণমাধ্যমে কথা না বলার জন্য নার্সদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর।

গত ১৫ এপ্রিল অধিদফতরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, ‘নাসিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের আওতাধীন সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে জনসম্মুখে, সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো গণমাধ্যমের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা বিবৃতি বা মতামত প্রদান না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি করোনার জন্য নির্ধারিত চিকিৎসাকেন্দ্র কুয়েত মৈত্রী বাংলাদেশ সরকারি হাসপাতালে নার্সদের খাদ্য সঙ্কট এমন শিরোনামে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়।

ভয়ঙ্কর এই মহামারী চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে সরকারিভাবে খাবার সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে নানান আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়। মানহীন পিপিই নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় খুমেক পরিচালককে স্ট্যান্ড রিলিজ : গত ৩১ মার্চ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের পরিচালক ডা: এ টি এম মোর্শেদকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে বদলি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মানহীন পিপিই গ্রহণ না করায় তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য মানহীন পিপিই সরবরাহ করা হয়। মানহীন এসব সংবেদনশীল সরঞ্জামাদি সরবরাহ করাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন হাসপাতালের পরিচালক ডা: এ টি এম মোর্শেদ। এর জের ধরে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

Check Also

চোখ উঠলে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

শীতের সময়ে অনেকের চোখে ওঠে। এ সময় চোখ উঠলে চিন্তার কিছু নেই। সাত থেকে দশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *