Breaking News
Home / জাতীয় / কার মাধ্যমে ডা. মঈন সং’ক্রমিত হয়েছিলেন, অবশেষে যা জানা গেল

কার মাধ্যমে ডা. মঈন সং’ক্রমিত হয়েছিলেন, অবশেষে যা জানা গেল

নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রা’ন্ত হয়ে দেশে মারা যাওয়া প্রথম কোনো চিকিৎসক হলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। (৩) বুধবার সকালে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যান তিনি। রাতে গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নাদামপুরে মায়ের ক’বরের পাশে দা’ফন করা হয় গরিবের চিকিৎসক খ্যাত ডা. মঈন উদ্দিনকে। মানবদরদী এই চিকিৎসকের মৃ’ত্যুশোকে আজও কাঁ’দছেন সিলেটের মানুষ।

তবে কার সং’স্পর্শে গিয়ে এই চিকিৎসক করোনায় আক্রা’ন্ত হন তা এখনও জানা যায়নি। ডা. মঈনের পর বা আগে সিলেট জেলায় আর কোনো করোনা আক্রা’ন্ত রোগীও শনাক্ত হয়নি। এ নিয়ে সিলেটের মানুষদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অজানা আত’ঙ্ক। ডা. মঈন উদ্দিনকে করোনা ছড়ানো ব্যক্তি এখনও শনাক্ত না হওয়ায় ওই ব্যক্তি আরও মানুষকে করোনাভাইরাসে সং’ক্রমিত করার ঝুঁ’কি থেকেই গেল।

গত ৫ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্ত হিসেবে তিনি শনাক্ত হন। প্রথমদিকে প্রবাসী স্বজনদের মাধ্যমে ডা. মঈন করোনা সং’ক্রমিত হতে পারেন বলে ধারণা করেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন তারা বলছেন, ডা. মঈনের প্রবাসী কোনো স্বজন দেশে আসার কোনো তথ্য তারা পাননি। কোনো রোগীর মাধ্যমেই মঈন সং’ক্রমিত হতে পারেন। ডা. মঈন আক্রা’ন্ত হওয়ার পর তার পরিবার ও কর্মস্থলের ১২ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। তবে তাদের কারও শরীরেও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে কার মাধ্যমে সং’ক্রমিত হলেন এই চিকিৎসক এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ডা. মঈন সিলেটের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র করোনা আক্রা’ন্ত ব্যক্তি। ওসমানী হাসপাতালের পাশাপাশি তিনি নগরের রিকাবীবাজারস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখতেন।

এ বিষয়ে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ডা. মঈন ৩০ মার্চ থেকেই তার ব্যক্তিগত চেম্বার বন্ধ করেছিলেন। তবে তিনি সোবহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালের কেবিনে ৪ থেকে ৫ জন রোগী দেখেছেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কয়েকজন রোগীও দেখেছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে একজন রোগী দেখেছেন। ওসমানীর আইসিইউতেই সেই রোগী মা’রা যান। আমাদের সন্দেহ ছিল এই রোগীর মাধ্যমে মঈন আক্রা’ন্ত হতে পারেন। তাই এই রোগী মা’রা যাওয়ার আগে তার নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষা করানো হয়। কিন্তু তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এছাড়াও ওই চিকিৎসকের সং’স্পর্শে আশা সবারই খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। তার পরিবারের সদস্য, তার সহকারী, তার কাছে চিকিৎসা নেয়া রোগী, তার ফার্মাসিস্ট সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে কেউই করোনা পজিটিভ নন।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্ত সব রোগীর শরীরে উপসর্গ দেখা দেয় না। অনেকেরই করোনার উপসর্গ আসে না কিন্তু তিনি ভাইরাস বহন করতে পারেন। তখন ওই ব্যক্তি যদি হাঁচি-কাশি দেন এর মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। এ রকম কোনো রোগী বা রোগীর স্বজনের সংষ্পর্শে তিনি গিয়েছিলেন কি না তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

৫ এপ্রিল ডা. মঈনের করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্ত হওয়ার তথ্য জানিয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেছিলেন, তিনি প্রবাসী স্বজনদের সংস্পর্শে এসে আক্রা’ন্ত হতে পারেন।

তবে বুধবার জেলার সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, কীভাবে তিনি সং’ক্রমিত হয়েছেন এটা শনাক্ত করা খুব ক’ঠিন। আমরা তার পরিবার ও কর্মস্থলের ১২ জনকে টেস্ট করিয়েছি। এদের কারও করোনা পজেটিভ ধরা পড়েনি। এছাড়া এই সময়ে সিলেটে আর কোনো রোগীও শনাক্ত হয়নি। ডা. মঈন সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের বাইরে যাননি, তার কোনো প্রবাসী স্বজনও দেশে আসেননি। ফলে তিনি কীভাবে আক্রা’ন্ত হয়েছেন তা বলা যাচ্ছে না।

জানা যায়, অসুস্থ বোধ করার পর থেকেই নিজে থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে ডা. মঈন উদ্দিন। চলতি মাসে তিনি চেম্বারে যাননি। আগে প্রতিদিন সকালে নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় তার বাসার সামনের রাস্তায় মর্নিংওয়াক করলেও গত ৩০ মার্চ তাও বন্ধ রাখেন। ৫ এপ্রিল যখন তিনি করোনা আক্রা’ন্ত হিসেবে শনাক্ত হন তখন হাউজিং এস্টেটের নিজ বাসায় ছিলেন ডা. মঈন। এরপর ওইদিনই হাউজিং এস্টেট এলাকা লকডাউন করে প্রশাসন।

করোনা আক্রা’ন্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর দুদিন তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৭ এপ্রিল রাতে তাকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রথমে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হলেও পরে সাড়ে ১১টার দিকে কেবিনে নিয়ে আসা হয়। অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা হয়।

তবে পরদিন ৮ এপ্রিল পরিবারের ইচ্ছায় ঢাকায় পাঠানো হয় ডা. মঈনকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তিনি মা’রা যান। দুই অবুঝ ছেলে সন্তানের জনক ডা. মঈনের স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। তিনি নগরের তেলিহাওরস্থ পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিওলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Check Also

তরুণ কবি আহমদ বাসিরের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ

তরুণ কবি আহমদ বাসির ১৮ নভেম্বর রাত ৯টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *