Breaking News

ব্রেকিং নিউজঃ যে ৫ কারণে বাংলাদেশে করোনা ঝুঁকি কমছে

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সে সময় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশে তিনজন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল যে, ইতালি এবং ইউরোপ থেকে যে সমস্ত অভিবাসী বাংলাদেশি ফিরেছেন,

তাদের মাধ্যমে এই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে। খুব শিগগিরই এটা সামাজিক সংক্রমণে রুপ নেবে এবং বাংলাদেশে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কিন্তু সেই ইতালি ফেরত প্রবাসীদের আসার প্রায় চার সপ্তাহ অতিবাহিত হচ্ছে। প্রথম করোনা রোগী শনাক্তকরণেরও ৩ সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেছে,

কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশে করোনার ব্যাপক বিস্তৃতি হয় নি। সর্বশেষ যে তথ্য তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৬০২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত পাওয়া গেছে ৫১ জন। এদের মধ্যে আবার ২১ জন সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে গেছেন। আর মারা গেছেন ৫ জন।

অন্যান্য যেসব দেশে করোনা মহামারী আকার ধারণ করেছে যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন; এই দেশগুলোতে দেখা গেছে যে, ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে করোনার বিস্তৃতি জ্যামিতিক হারে বেড়েছে এবং মহামারী আকার ধারণ করেছে। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ৩ সপ্তাহ পর এদেশে করোনার বিস্তৃতি ব্যাপক আকারে হয় নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আগামী এক সপ্তাহ যদি এই বৃদ্ধির জ্যামিতিক হার লক্ষ্য না করা যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে, বাংলাদেশ আপাতত করোনা মহামারীর সম্ভাবনা এড়াতে পারলো এবং এদেশ করোনার ঝুঁকি থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসবে। বাংলাদেশে করোনার ঝুঁকি কমছে কেন, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে ৫ রকমের মতামত পাওয়া গেছে।

প্রথমত; করোনা সংক্রমিত এলাকা থেকে যে অভিবাসীরা আসার পর ইতিমধ্যে ১৪ দিন অতিবাহিত হয়েছে। করোনা সংক্রমিত হওয়ার জন্য এই ১৪ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ ইউরোপ, বিশেষ করে ইতালি থেকে আগতদের মধ্যে যারা হোম কোয়ারেন্টাইন মানেননি, তাদের প্রত্যেকেরই প্রায় ১৪ দিন অতিবাহিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও ৭ দিন যদি অপেক্ষা করা যায়, তাহলে মোটামুটি একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সেজন্য এই ১৪ দিনের মধ্যে যেহেতু করোনার ব্যাপক বিস্তৃতি হয়নি। সেজন্য ধারণা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে করোনার ঝুঁকি আগের চেয়ে কমে গেছে।

দ্বিতীয়ত; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনার ঝুঁকি কমার কারণ হলো নতুন যারা বিদেশ থেকে আসছেন, তাদেরকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী নামানোর পর থেকেই দেখা যাচ্ছে যে, কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাটা অত্যন্ত কঠোরভাবে আরোপ করা হচ্ছে। ফলে নতুন করে তারা যে সংক্রমণ ঘটাবেন এ রকম সম্ভাবনা ক্রমশঃ কমে আসছে।

তৃতীয়ত; বিশেষজ্ঞরা যেই কারণটি মনে করছেন তা হলো, এখন পর্যন্ত যেভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, তাতে আইইডিসিআর মনে করছে যে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সামাজিক সংক্রমণ খানিকটা হয়েছে। তবে এর ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেনি। কারণ মীরপুরের টোলারবাগসহ যে সব জায়গাগুলোতে সামাজিক সংক্রমণ ধরা পড়েছিল সেই জায়গাগুলোকে সাথে সাথে সফলভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। যার জন্য সামাজিক সংক্রমণ ততটা বিস্তৃত হয়নি।

চতুর্থত; বিশেষজ্ঞদের মতে, এদেশের মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। যার কারণে করোনা বাংলাদশের মানুষের ওপর খুব বড়সড় আঘাত হানতে পারে নি এবং ব্যাপক বিস্তৃতও হতে পারেনি।

পঞ্চমত; বাংলাদেশে উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে করোনার প্রকোপ যেমন বিস্তৃত হয়নি, তেমনি আস্তে আস্তে করোনার বিস্তৃতিও কমছে। কারণ ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনলজির (এমআইটি) সর্বশেষ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, করোনা আক্রান্ত এলাকাগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশই হলো শীতপ্রধান এলাকা। আর মাত্র ১০ শতাংশ হলো উষ্ণ অঞ্চল। যদিও এটি এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

কিন্তু তারপরও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, উষ্ণ এলাকায় করোনা ভাইরাস বেশিক্ষণ টিকতে পারছে না। এটি মোটামুটি নিশ্চিত। এ সমস্ত কারণেই বাংলাদেশ ক্রমশ করোনার মহামারী ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে আসছে। বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন যে, আগামী ৭টি দিন গুরুত্বপূর্ণ।

এই ৭ দিন যদি বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের বিস্তৃতি না ঘটে তাহলে বাংলাদেশে করোনা মহামারী আকার ধারণ করবে না বলেই মনে করা যায়। তবে আরও কিছুদিন ধরে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব এবং সভা সমাবেশের মতো কর্মসূচীগুলো যদি আমরা এড়িয়ে যেতে পারি তাহলে হয়তো আমরা করোনা মহামারী থেকে এ যাত্রায় পরিত্রাণ পেতে পারবো।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার

Check Also

Amnesty and HRW urge Bangladesh to immediate release Mir Ahmad, Amaan Azmi

Two human rights organizations – Amnesty International and Human Rights Watch – have urged Bangladesh …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *