Breaking News

আক্রান্তের হার ১২ শতাংশে পৌঁছুলে ইসরাইল হবে চীন-ইতালির মতো সবচেয়ে বেশি করোনায় বিধ্বস্ত দেশ!

বিশ্বজুড়ে আধিপত্য এখন কেবল করোনারভাইরাসের। বাকি সবই ফিকে এ অদৃশ্য মারণাস্ত্রের কাছে। ইতিমধ্যে গোটা বিশ্বকে গ্রাস করেছে করোনা। চীনের উহান শহরে উৎপত্তির পর করোনা পৌঁছে গেছে ইসরাইলে। করোনা ঠেকাতে প্রযুক্তির দারস্থ হয়েছে ইসরাইল। তবু করোনার থাবা থেকে রেহাই নেই।

মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনা রোগীর সংখ্যা ১৬৫৬ জন। এ সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। দেশটিতে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার দেখে ধারণা করা হচ্ছে দ্রুতই ১০ লাখ ইসরাইলি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। যাদের মধ্যে মারা যেতে পারেন ১০ হাজার মানুষ।

দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, গত ১৮ মার্চ ১১ হাজার ইসরাইলির ওপর করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা চালায় ইসরাইলের স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানে, ৪৩৩ জনের ফলাফল কভিড-১৯ পজিটিভ আসে। যা মোট নমুনার ৪ শতাংশ। এরপর গত মঙ্গলবার, ২৭ হাজার ৫৪ জনের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে সব মিলিয়ে ১৬৫৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়, যা ৬.১ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর স্যামসন আজুটা আশদুদ ইউনিভার্সিটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ পরিষেবার প্রধান ড্যানিয়েল গ্রুপেল বলেন, এমন হারে বৃদ্ধি পেতে থাকলে ইসরাইলের এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে। গ্রুপেলের এমন বক্তব্যের আগেই সোমবার মন্ত্রিসভার সাত ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানইয়াহু।

তিনি স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের হুঁশিয়ারি দেন, ‘মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ করোনার লাগাম টেনে না ধরতে পারলে আগামী এক মাসে ১০ লাখ ইসরাইলি কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হতে পারে। এতে মারা যেতে পারে ১০ হাজার ইসরাইলি।’ প্রধানমন্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারির পর দেশটির ম্যাগান দাউদ-আদম মেডিকেলের পরিচালক রাফায়েল স্টুরগো বলেন, আমরা যতটুকু পরীক্ষা করতে পেরেছি তার ৪ শতাংশ রোগী পেয়েছি।

হতে পারে আরও অনেক ইসরাইলি ভাইরাসটি বহন করছেন যাদের পরীক্ষা করা হয়নি। তবে এই আক্রান্তের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশে পৌঁছুলে আমি মনে করি ইসরাইল হবে চীন-ইতালির মতো সবচেয়ে বেশি করোনায় বিধ্বস্ত দেশ। এদিকে এন১২ চ্যানেলকে দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এমন মহামারী পরিস্থিতিতেও সাধারণ ইসরাইলিরা এমনকি বেশ কয়েকজন মন্ত্রী রোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রুখতে সব করোনা রোগীর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করার কার্যক্রম চালু করেছে নেতানিয়াহু সরকার। এর মাধ্যমে সব করোনা রোগীদের গতিবিধি অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক তথ্য তাদের কাছে এসেছে। করোনা পরীক্ষা করার আগে ওই ব্যক্তি কোথায় গেছেন, কার সংস্পর্শে এসেছেন সব খবরই জানা যাচ্ছে এই পদ্ধতিতে।

উল্লেখ্য, ইসরাইলের স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছে, দেশটিতে সব মিলিয়ে এক লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার কোয়ারেন্টিনে আছেন। একাত্তর হাজার ঊনত্রিশ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২১৪ জন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৬৫৬ জনে পৌঁছল। এদের মধ্যে ৩১ জনের অবস্থা গুরুতর। আর ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দুই জন।

Check Also

Amnesty and HRW urge Bangladesh to immediate release Mir Ahmad, Amaan Azmi

Two human rights organizations – Amnesty International and Human Rights Watch – have urged Bangladesh …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *