Breaking News

র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন যেন কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। আগে কেবল ছাত্ররা জ্যেষ্ঠ ব্যাচের ছাত্রদের হাতে র‌্যাগিংয়ের শিকার হলেও অমানবিক বিষয়টি থেকে এখন ছাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছেন না।

গত বছর নভেম্বরে বরিশালের ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) এক ছাত্রীকে ড্রয়িং রুমে নির্যাতন করা হয় সিনিয়রদের নির্যাতন-নিপীড়ন নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার কারণে।

ম্প্রতি ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নবীন শিক্ষার্থী জ্যেষ্ঠদের হাতে র‌্যাগিংয়ের শিকার হন। তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে। সর্বশেষ শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসদাচরণ ও র‌্যাগিংয়ের দায়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের (যবিপ্রবি) দুই ছাত্রকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। গত বছরের নভেম্বর মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ছাত্রলীগের দুই কর্মী পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছেন সোহরাব মিয়া নামে একই হলের ফাইন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে। এতে সোহরাবের মাথা ফেটে যায় ও হাত ভেঙে যায়। র‌্যাগিংয়ের নামে এমন নির্যাতন-নিপীড়ন কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

ধারণা করা হয়েছিল, ছাত্রলীগের কিছু শিক্ষার্থীর নির্যাতনে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনার পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেয়া পদক্ষেপের ফলে র‌্যাগিংসহ সব ধরনের শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধ হবে এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত হবে। কিন্তু সে আশায় যে গুড়েবালি, তা এখনও থেমে থেমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিং-নির্যাতনের খবর থেকে আঁচ করা যায়।

র‌্যাগিং, ছাত্র রাজনীতি, দলাদলি ইত্যাদির কারণে শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না তা নয়। সমস্যা হল, কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের অঘটনের আগে এসব বিষয়ে ভালোভাবে কর্ণপাত করে না। ফলে ছোট ছোট বিরোধ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা একসময় বড় আকার ধারণ করে।

জীবন গড়ার একই উদ্দেশ্য নিয়ে ক্যাম্পাসে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর হাতে অন্য শিক্ষার্থীর নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা পিতামাতার আমানত তথা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় অবহেলাও কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে নজরদারি বাড়ানো। অন্যথায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন স্বপ্নই থেকে যাবে।

Check Also

৫৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে

অবশেষে ৫৬ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *