thesis writing order professional writing service reviews application letter format for sale of flat creative writing masters amsterdam deserted house creative writing viking gods primary homework help get to doing my homework creative writing writers block diploma in creative writing symbiosis key stage 4 creative writing uea creative writing society recommended essay writing service it was a dark and stormy night creative writing creative writing memory osu masters creative writing english creative writing wwu exeter creative writing creative writing programs in the us creative writing fiction early help case study boise state creative writing bfa significant learning in creative writing advanced creative writing techniques creative writing about witches denison creative writing which characteristic best defines creative writing creative writing summer camp austin dccc creative writing course primary homework help ancient pyramids creative writing challenge internshala best creative writing program dreams about doing homework english with creative writing goldsmiths bus creative writing price mechanism ib essay cover letter for resume maker masters in creative writing university of sydney creative writing about a room graduate diploma creative writing creative writing description of pain creative writing tafe wa diction in creative writing ppt how parents help with homework does homework help younger students osu creative writing ba english and creative writing creative writing bishan hospital room description creative writing description of a desert creative writing last night while i was doing my homework angela (call) creative writing comics creative writing carleton university creative writing describing buildings curriculum vitae english creator unca creative writing program custom writing help creative writing ma canada essay written in french airport description creative writing business plan i need help creative writing about the beach creative writing kwantlen creative writing emerson police creative writing help me and write application letter are essay writing services ethical nyu paris creative writing creative writing tiredness creative writing on fall year 7 creative writing prompt kid doing homework alexa how to help children's homework best creative writing workshops in the world making order out of chaos case study answers creative writing aacc spooky creative writing prompts appearance description creative writing creative writing prompt 8th grade ks4 creative writing tes creative writing course vancouver church creative writing description creative writing uk university will writing service billericay cover letter for travel writer ma creative writing northumbria now and then creative writing exemplars resume writing service portland or meteorology homework help someone who can do my essay custom writing service review creative writing masters kent words that describe creative writing eleven plus forum creative writing pay for homework to get done resume writing service seattle integrated 1 homework help what makes creative writing different from other types of writing creative writing holocaust gotham creative writing 101 creative writing ink
Breaking News

শেষ পর্যন্ত বিএনপির বোধোদয় হলো।

মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ আসন্ন নির্বাচনগুলোয় অংশ নেবে বিএনপি।নির্বাচনে অংশ নেয়াকে বিএনপি এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে মনে করছে। বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল এবং দলটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাসী।

নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথে ক্ষমতার পরিবর্তনের পথ নেই, হওয়া উচিতও নয়। সে কারণেই বিএনপি সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। অতীতে দু-একটি নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা দলকে জনগণের সঙ্গে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করতে চান।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে গণতন্ত্র সুরক্ষিত ও সুসংহত করার অঙ্গীকার রয়েছে। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতে গণতন্ত্র কায়েম এবং গণতান্ত্রিক জীবনধারা ও গণতান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসেবে গণনির্বাচিত জাতীয় সংসদের ভিত্তি দৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে। এ অঙ্গীকার পূরণে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনর্বহাল করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

তাছাড়া উৎপাদনের রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং জনগণের গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনের যে লক্ষ্য বিএনপির গঠনতন্ত্রে বিধৃত হয়েছে, তা বাস্তবায়নে জিয়াউর রহমানের সরকার পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ‘মিশ্র অর্থনৈতিক’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়। অর্থনৈতিক নীতিতে বেসরকারি খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান এবং কৃষকদের ব্যাপক হারে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের উপযোগী নতুন উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হয়। এতে দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ে এবং শিল্প খাতে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতি এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সরকারের পতন হলে ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের আমলে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে গণতন্ত্র সুরক্ষিত ও সুসংহত করার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত ঘোষিত সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল করে, যা বর্তমানেও চালু রয়েছে। ১৯৯৪ সালে মাগুরা-২ উপনির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও অন্য দুটি বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন শুরু করলে বিএনপি সে দাবি মেনে নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে।

২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আবারও সরকার গঠন করে। ওই সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক ছিল দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার। সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রশাসন ব্যবস্থার বাইরে সৃষ্টি করা হয় অনানুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কেন্দ্র।‘হাওয়া ভবন’ নামে পরিচিত এ অনানুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কেন্দ্রটি আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রশাসন ব্যবস্থাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করত। এ সরকারের পাঁচ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ চারবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।

তাছাড়া সরকারের মেয়াদ শেষে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে নানারকম ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়। ফলে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ২০০৭ সালের জানুয়ারির নবম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে, যা সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণে সহায়তা করে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভীষণভাবে পরাজিত হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠন করে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। এ সরকার ২০১১ সালের জুনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিএনপি প্রবর্তিত জাতীয় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে। জনগণ আওয়ামী লীগের এ পদক্ষেপকে ভালোভাবে নেয়নি। সাধারণ নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়তে থাকে। এ দাবিতে আন্দোলন বেগবান হতে থাকলে সরকারের অস্বস্তি বেড়ে যায়।

সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সংলাপের জন্য দশম সংসদ নির্বাচনের আড়াই মাস আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের জন্য টেলিফোনে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানান। প্রস্তাবিত এ সংলাপের দিনের পরদিন পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আহূত হরতালের মেয়াদ বহাল থাকায় খালেদা জিয়া পরবর্তী যে কোনো দিনে যে কোনো জায়গায় তার সঙ্গে সংলাপে বসার সম্মতি দেন।

এ সংলাপ আর হয়নি। অনেকে মনে করেন, গণভবনে আলোচনায় বসার জন্য খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেলিফোনে আমন্ত্রণ এবং তাৎক্ষণিক সম্মতি প্রদানের তাগিদ ছিল লোক দেখানো এবং সময় পার করার কৌশল। কারণ আওয়ামী লীগ কখনও বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী ছিল না এবং আওয়ামী লীগ চায়নি বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সরকারের কৌশল বুঝতে ব্যর্থ হয় বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সংলাপে যোগ না দিয়ে দলটি সরকারের পাতানো ফাঁদে পা দেয়।

রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে বিএনপির সংলাপে আগ্রহ নেই- এমন বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে আওয়ামী লীগ কোনো কার্পণ্য করেনি। দশম সাধারণ নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষে একটি গণজোয়ার সৃষ্টি হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দেশি-বিদেশি সুহৃদদের পরামর্শ উপেক্ষা করে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। এটি ছিল বিএনপির একটি মারাত্মক ভুল। এ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের জয়লাভের সমূহ সম্ভাবনা ছিল। অধিকাংশ আসনে জয়লাভ না করলেও বিএনপি ১০০ থেকে ১২০টি আসনে জয়লাভ করত এবং একটি শক্তিশালী বিরোধী দলে পরিণত হতো।

সেক্ষেত্রে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএনপিকে কঠিন সময় পার করতে হতো না এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে সরকারি দল নজিরবিহীন অনিয়মের আশ্রয় নিতে পারত না। একাদশ সংসদ নির্বাচনের একদিন পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, অনেকে বলে থাকেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ভুল করেছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হল, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ওই নির্বাচনের পরপরই অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়রের শূন্যপদে এবং ডিএনসিসি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১২টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে বিএনপি। তাছাড়া গত বছরের ১০ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি।

নির্বাচন বর্জনের মানসিকতা থেকে সরে এসে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচনে অংশগ্রহণের যে প্রত্যয় বিএনপি এখন ব্যক্ত করল, তা একদিকে যেমন দলটির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে তা বাংলাদেশের বর্তমান দুর্বল গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করবে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপিকে এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দলটির এখন প্রথম কাজ হবে তৃণমূলসহ সব পর্যায়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা। তৃণমূল পর্যায়ে দলটির রয়েছে এক বিরাট কর্মীবাহিনী। বিগত দিনে এরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিদারুণ কষ্টে রয়েছেন, তাদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় যারা সরকারের রুজু করা মামলা-মোকদ্দমায় আসামি হয়েছেন বা হচ্ছেন, তাদের আইনি সহায়তা দিতে হবে। এমন সহায়তা পাচ্ছেন না বলে ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ ইতিমধ্যে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।দ্বিতীয়ত, কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের যেসব নেতা গত বছর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, তাদের ধৈর্য ধারণে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, বিএনপিকে জোরেশোরে গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে এবং এসব কার্যক্রমে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোট প্রদানের অধিকার রক্ষার্থে দলটির কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের অনিয়মগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরে দলীয় সরকারের অধীনে সব পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহণ বন্ধে জোর দাবি তুলতে হবে। চতুর্থত, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন পেতে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।

তবে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে তার জামিনের জন্য আবেদন করা ঠিক হবে না। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের ইচ্ছানুযায়ী এবং সরকার নির্ধারিত শর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খালেদা জিয়া জামিন পেলে তা হবে বিএনপির জন্য আরেকটি পরাজয়। খালেদা জিয়া নিজেও এ প্রক্রিয়ায় জামিন পেতে রাজি নন বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে স্বাভাবিক নিয়মে খালেদা জিয়ার জামিনের আশু সম্ভাবনা না দেখা গেলে এবং বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আদালতের মাধ্যমে স্বাভাবিক নিয়মে জামিন না পাওয়া পর্যন্ত দলের গঠনতন্ত্রে আরেকটি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করে রাজনীতিতে সশরীরে সক্রিয় দলের কোনো সিনিয়র নেতাকে ওই পদে বসিয়ে তার নেতৃত্বে দল পরিচালনা করা সময়ের দাবি বলে মনে করেন অনেকে।

লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ যত শিগগির বন্ধ হবে, ততই তা দলের জন্য মঙ্গল হবে। পঞ্চমত, একাদশ সংসদ নির্বাচন এবং ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের দিনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রের আশপাশে উপস্থিতি ও তৎপরতার অভাব বিএনপির পরাজয়ে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে বললে বোধহয় অত্যুক্তি করা হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে জীবন বাজি রেখে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়াসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে বিএনপি নেতাকর্মীদের তেমন উৎসাহী দেখা যায়নি।

নির্বাচনে অনিয়ম হতে পারে এমন আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বিএনপি নেতারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করেননি। আগামী যে কোনো নির্বাচনে নির্বাচনের দিন অনিয়ম ঠেকাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাহসের পরিচয় দিতে হবে। দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিকল্প নেই। বর্তমানের দুর্বল গণতন্ত্রকে সবল করতে বিরোধী দলগুলোর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য যেটুকু স্পেস বা সুযোগ থাকা প্রয়োজন বর্তমানে তা নেই।

এটা থাকতে হবে। বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশে নির্ভেজাল গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হোক- এটাই জনগণের প্রত্যাশা। আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক,latifm43@gmail.com

Check Also

কোরআন ই‌ঙ্গিত দি‌য়ে‌ছে, পিঁপড়া কাঁ‌চের তৈরী, আর বিজ্ঞানও তা প্রমান কর‌লো!

কোরআন ই‌ঙ্গিত দি‌য়ে‌ছে, পিঁপড়া কাঁ‌চের তৈরী, আর বিজ্ঞানও তা প্রমান কর‌লো ! আল্লাহ্ বল‌ছেনঃ حَتَّىٰ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *