Breaking News

সরকার কি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারে?

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপি ও সরকার দলের মধ্যে কাদা-ছোঁড়াছুঁড়ি চলছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তাকে যে কোনো মূল্যে মুক্তির বিষয় ভাবছেন। সরকারের স্বদিচ্ছায় তার মুক্তি হতে পারে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে ফোন করেছিলেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনে কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। এ দিকে ফোন কলের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তিনি (ফখরুল) ফোনে কী বলেছেন তা রেকর্ড আছে।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে আবেদনের বিষয়টি তার পরিবার দেখছে। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি।

বাস্তবিক অর্থেই যদি মির্জা ফখরুল ফোন করে থাকেন তাহলে সরকার কী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারে?

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ও ৪০২ ধার অনুযায়ী সরকার যে কোনো ব্যক্তিকে মুক্তি বা সাজা মওকুফ করতে পারে। তাহলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকারের বাধা কোথায়?

যদিও এ প্রশ্নের উত্তরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি আদালতের ব্যাপার। যদি আদালতের ব্যাপারই হয়, তাহলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে আদালতের বাধা কোথায়?

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় বলা হয়েছে, আপিল চলাকালীন অবস্থায় আদালত কোনো আসামির জামিন মঞ্জুর বা দণ্ড স্থগিত করতে পারেন। যদিও আদালতের সেটা ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।

যদি আদালতের জামিনের বিষয়েও আসা যায় তাহলে দেখা যাচ্ছে, সিআরপিসির ৪৯৭ ধারায় অজামিনযোগ্য অপরাধের কথা বলা হয়েছে। তবে সেখানে অজামিনযোগ্য ধারায়ও একজন আসামি জামিন পেতে পারেন, যদি সে ১৬ বছরের নিচে হয়, অসুস্থ বা পীড়িত অথবা নারী হন। সে হিসেবেও খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেতে পারেন।

যদি খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি রাজনৈতিক হয়, তাহলে সরকারের স্বদিচ্ছায়ও অসুস্থ খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন। তার মুক্তির বিষয় সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই আছে।

মোট কথা যেভাবেই হোক তার মুক্তি চাইছে পরিবার। পরিবার থেকে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো নয়, তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা লিখিত কোনো আবেদন পাননি।

এ বিষয়টি নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এ ব্যাপারে তারা লিখিত কোনো আবেদন পাননি। তারা (বিএনপি) শুধু মুখে মুখেই মুক্তির কথা বলছেন, কিন্তু লিখিত কোনো আবেদন করেননি। এটি দুর্নীতির মামলা। রাজনৈতিক মামলা হলে সরকার বিবেচনা করতে পারত।

এ দিকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে দুই বছরের অধিক সময়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আজ (মঙ্গলবার) আবেদন করা হয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ জামিন আবেদন করা হয়।

জামিন আবেদনে ৫টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। এগুলো হল- খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না, তাই জামিন পেলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাবেন।

এ বিষয়টি এখন আদালত বিবেচনা করতে পারেন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে জামিনে মুক্তি দেয়া হবে কি-না? তবে অসুস্থ খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারও ভূমিকা নিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে প্রশ্ন হল, যদি সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়, তাহলে কি সরকার তাকে মুক্তি দেবে? যদিও সরকার দল বলছে আবেদনই পাননি।

Check Also

Police arrests Jamalpur district Ameer and 13 other party activists; Acting Secretary General of BJI condemns

Acting Secretary General of Bangladesh Jamaat-e-Islami Maulana ATM Masum has issued the following statement on …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *