Breaking News

জামিন পেলেই বিদেশে যাবেন খালেদা জিয়া

জামিনে মুক্ত হয়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এজন্য চলতি সপ্তাহে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে নতুনভাবে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবীরা। এ সংক্রান্ত কাগজপত্রও প্রায় চূড়ান্ত।

খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তার চিকিৎসা প্রয়োজন- এই গ্রাউন্ডেই এবার জামিন চাওয়া হবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশ যেতে চান সে বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হতে পারে।

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তির ইস্যুটি ফের আলোচনায় আসে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে মেডিকেল বোর্ডের কাছে আবেদন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় নেয়।

এ নিয়ে পর্দার আড়ালে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। শিগগিরই তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে লন্ডন যাচ্ছেন এমন খবরও চাওর হয়েছে। প্যারোলের আবেদন করা হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হতে পারে বলে সরকারের তরফ থেকেও আভাস মিলছে।

তবে আপাতত প্যারোল বা সাজা মওকুফের আবেদনে নেতিবাচক মনোভাব খালেদা জিয়ার। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রসর হতে বলেছেন তিনি। এমন নির্দেশনার পরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এরই অংশ হিসেবে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন চেয়ে ফের হাইকোর্টে আবেদন করা হবে।

শুক্রবার দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। বৈঠকের পর জামিন আবেদনের কাগজপত্র তৈরি করছেন তারা। প্রায় সব আইনজীবীই জামিনের ক্ষেত্রে চিকিৎসার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। এরপরও আদালত তাকে জামিন দেননি।

তার শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা আবারও আদালতে জামিন চাইব। খুব শিগগিরই এ আবেদন করা হবে। আশা করি আদালত বিষয়টি এবার গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং তাকে জামিন দেবেন।

প্রায় একই সুরে কথা বলেন খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যেই আমরা চেয়ারপারসনের মুক্তি চেয়ে নতুন করে আদালতে আবেদন করব। আশা করি আদালত তাকে জামিন দেবেন।

জামিনের ক্ষেত্রে চিকিৎসার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তার পরিবার মেডিকেল বোর্ডের কাছে তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড চেয়ারপারসনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো নতুন করে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর হয়তো তার কোন চিকিৎসা বিদেশে প্রয়োজন সেটা তারা জানাবে।

আগে জামিন না দিলেও এবার এ গ্রাউন্ডে তাকে জামিন দেয়া হবে বলে আশা করি। চেয়ারপারসন জামিন পাবেন এমন প্রত্যাশা নিয়েই আমরা আবেদন করছি।

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন তার পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা। পরিবার এবং দলের একটি অংশ যে কোনো মূল্যে তাকে কারামুক্ত করে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে প্যারোলে মুক্তি নিয়েও তাদের আপত্তি নেই। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে বিএনপির কয়েক নেতা এবং পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করছেন। আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিরও চেষ্টা করছেন তারা।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করেন মির্জা ফখরুল। তবে পরিবারের আবেদন কিংবা মির্জা ফখরুল প্যারোলের ব্যাপারে কিছুই বলেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সুপারিশ করতে মেডিকেল বোর্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

ফখরুল প্যারোলের জন্য ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ করেননি। তিনি খালেদা জিয়ার সাজা মওকুফ করে তাকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। ফখরুল বলেছেন, চেয়ারপারসনের মামলাটি রাজনৈতিক।

তাই তার মুক্তির বিষয়টিও রাজনৈতিকভাবেই হতে পারে। খালেদা জিয়া ছাড়া পরিবার বা অন্য কারও পক্ষে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা সম্ভব নয়। কারণ এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার নিজের অনুমতি বা আবেদনে স্বাক্ষর লাগবে।

বিএনপি ও চেয়ারপারসনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্যারোলে বা সাজা মওকুফের আবেদন করতে এখনও সম্মতি দেননি খালেদা জিয়া। আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি। দলের বেশির ভাগ নেতাও প্যারোল বা ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে নয়।

তারা মনে করেন, প্যারোলে মুক্তি দেয়া মানে সরকারের সঙ্গে আপস করা। দুর্নীতি করেছেন এমন দোষ স্বীকার করেই প্যারোল বা সাজা মওকুফের আবেদন করতে হবে। তাহলে দীর্ঘদিন ধরে ‘আপসহীন’ নেত্রীর উপাধি পাওয়া খালেদা জিয়া ভাবমূর্তি সংকটে পড়বেন বলে মনে করছেন বেশির ভাগ নেতাকর্মী।

জানতে চাইলে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী যুগান্তরকে বলেন, দল বা পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ প্যারোলের কথা বলেনি। এটা একটা প্রোপ্রাগান্ডা। আমরা চাই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তার মুক্তি হোক। এ লক্ষ্যে আইনজীবীরা পুনরায় আবেদন করবেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত জামিন দিলে নিশ্চয় চেয়ারপারসন সেটা মেনে নেবেন।

জিয়া অরফানেজ এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুটি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া ১৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে থাকার দুই বছর পুরো হয়েছে গত ৮ ফেব্রুয়ারি। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

Check Also

Following consecutive remands; Jamaat leaders were sent to jail

The Jamaat leaders, who were arrested from an organizational meeting on last 6th September, were …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *