Breaking News

আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করে রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছে

একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করে রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল রোববার বিকেলে ‘ভোট ডাকাতি’র বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই বিক্ষোভ সমাবেশে ফ্রন্টের নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব এ কথা বলেন,তিনি বলেন, কোনো গ্রামে যদি ডাকাত পড়ে, চোর পড়ে মানুষ কী করে?

মানুষ ঘেরাও করে চোর ধরে, ডাকাত ধরে। সারা বাংলাদেশের ভোট চুরি করেছে, দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ডাকাতদের ধরতে হবে। ভোট ডাকাতি করা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। জনগণের ভোট ডাকাতি করা সংবিধানবিরোধী কাজ। তিনি বলেন, যেখানেই যাই জনগণ বলে, আমাদের ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

আমাদেরকে ভোট পুনরুদ্ধার করতে হবে। রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে এদের বিদায় করতে হবে, বিতাড়িত করতে হবে। জনগণের সরকার যদি কায়েম করতে হয়, মুক্তিযুদ্ধের সরকার যদি কায়েম করতে হয়, জাতীয় সরকার যদি কায়েম করতে হয় তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই ভোট ডাকাত, ভোট চোরদেরকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিদায় করি।জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ফুটপাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে তিনি আসতে পারেননি বলে নেতৃবৃন্দ জানান। বিক্ষোভ সমাবেশের পর আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল শুরু হলে পুলিশ কদম ফোয়ারের আগে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে মিছিলটিকে আটকে দেয়।

৪-৫ মিনিট নেতাকর্মীরা সরকারের ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে নেতৃবৃন্দ কর্মসূচি শেষ করে চলে যান।রব বলেন, এখানে অনেক আইনজীবী আছেন তাদেরকে বলব, এই ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ডাকাতি যারা করেছে তাদেরকে সবাই চিনেন, তাদের চিহ্নিত করেন। রাস্তা-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে যেখানে পারেন দেখলে জনগণকে বলেন, এই চোর যায়, ডাকাত যায়। চোর চোর ধর, ডাকাত ডাকাত ধর ধর।

ডাকসু ভবনের কাছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখ করে সাবেক ভিপি আ স ম আবদুর রব বলেন, আজকেও ডাকসু ভবনের পেছনে কয়েকটা ককটেল ফাটানো হয়েছে। কারা ফাটায়? প্রক্টর সাহেব জানেন না, ভাইস চ্যান্সেলর জানেন না, রেজিস্ট্রার জানেন না। এই ডাকসু থেকে স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলিত হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশে স্বাধীনতার পূর্বে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয় নাই একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া। জাতীয় সঙ্গীত হয় নাই, দেশের সীমানা নির্ধারিত হয় নাই, সরকারপ্রধান নির্ধারিত হয় নাই, সেনাবাহিনী প্রধান নির্ধারিত হয় নাই একমাত্র বাংলাদেশে ছাড়া।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, যে নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে, সেই নির্বাচন আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। সত্যিকার জনগণের প্রতিনিধি ছাড়া এ দেশে শাসন করার অধিকার কেউ রাখে না এবং এ দেশের সত্যিকার মালিক হচ্ছে জনগণ, এ দেশের সব ক্ষমতার উৎস্য হচ্ছে জনগণ।

তিনি বলেন, জনগণের অবিচল আস্থা রেখে এ দেশে ফের আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে জনগণের অধিকার, জনগণের আমানত স্বাধীনতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেবো। আসুন আজকে আমরা নতুন নির্বাচনে করে, নির্বাচনের মাধ্যমে সেই গণতন্ত্র একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ দেশের মানুষের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেবো।

ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, তারা একটি বিশ্বাসে রাজনীতি করে যে, এ দেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে হবে, সত্যিকার স্বাধীনতা দিতে হবে, অর্থনৈতিক সাম্য দিতে হবে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা কর্মসূচি দেবো। পাটকল শ্রমিক যদি কেউ মারা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর যদি অত্যাচার আরো বাড়ে, নারী নির্যাতন না কমে, গুম-খুন বন্ধ না হয়, আর আপনার (সরকার) মতো ফর টুয়েন্টি গভর্নমেন্ট যদি চলে না যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে আমরা সামনে আসছি।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে এত বড় কলঙ্কের তিলক কখনো লাগেনি যা ২৯ তারিখ রাতে লেগেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো দেশে কোনো ভোটে এত বড় চুরি হয় নাইÑ গতকালের ভোট আজকে হয়ে যায়। এই ভোট বাতিল করতে হবে, সংসদ বাতিল করতে হবে, সরকার পদত্যাগ করতে হবে, চলে যেতে হবে সরকারকে। এ জন্যই আমাদের আন্দোলন, সেই শপথ নেয়ার জন্য আমরা আজকে দাঁড়িয়েছি।

রবের সভাপতিত্বে মোশতাক আহমেদ ও জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, কাজী আবুল বাশার, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, জেএসডির তানিয়া রব, সানোয়ার হোসেন তালুকদার, নাগরিক ঐক্যের শহিদুল্লাহ কায়সার, বিকল্প ধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।noa digant

Check Also

Following consecutive remands; Jamaat leaders were sent to jail

The Jamaat leaders, who were arrested from an organizational meeting on last 6th September, were …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *