Breaking News
Home / জাতীয় / স্থায়ী কমিটির বৈঠক: আ’লীগের নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত বিএনপির

স্থায়ী কমিটির বৈঠক: আ’লীগের নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত বিএনপির

আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। শনিবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যেহেতু একটি রাজনৈতিক দল, আমরা সব রাজনৈতিক দলকে সব সময় সহযোগিতা করি, স্বাগত জানাই। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যেহেতু নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়েছে, আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশা করব, নতুন যে কমিটি গঠিত হয়েছে তারা তাদের অতীতের অপকর্মগুলোকে ভুলে গিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য অতি দ্রুত একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। যে নির্বাচনটি একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হবে এবং মানুষের ভোটের অধিকারগুলো ফিরিয়ে দেবে।

আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ একটি পুরনো ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল এবং নিঃসন্দেহে এই জাতি গঠনে, জাতির স্বাধীনতা লাভে ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের জন্য অতীতে অনেক গৌরবময় অধ্যায় তাদের রয়েছে, ইতিহাস রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দলটির হাতেই বার বার গণতন্ত্র নিহত হয়েছে। ১৯৭৫ সালে তারা একবার বাকশাল করেছিল, আবার এই একদশক ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়ার জন্য সব কাজ সমাপ্ত করেছে।

বর্তমান সমসাময়িক নানা বিষয়ে আলোচনা করতে সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আগামী বছর স্বাধীনতার অর্ধশত বর্ষ (সুবর্ণজয়ন্তী)। এই অর্ধশত বার্ষিকী বছরব্যাপী বিএনপি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করার জন্য একটি উপকমিটি গঠন করেছে। এই উপকমিটি সারা বছর ধরে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করবে এবং সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। এই উপকমিটির প্রধান করা হয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।

অন্য সদস্যরা হলেন- গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সেই কলঙ্কজনক নির্বাচন যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একটি কলঙ্ক বলে আমরা মনে করি। সেই দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিনটি যথাযোগ্য গুরুত্বের সঙ্গে পালন করার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট ও বিএনপি তাদের কর্মসূচি গ্রহণ করে তা পালন করবে।

রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দেয়ার জন্য গাম্বিয়া, নেদারল্যান্ডস ও কানাডাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি চিঠি দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে এই মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষা করছে। গাম্বিয়া এই মামলাকে আন্তর্জাতিক আদালতে তুলে নিয়ে এসেছে। গাম্বিয়াকে সহযোগিতা করেছে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। সে জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে পত্র দেয়া হবে।

ভারতের এনআরসি নিয়ে বিএনপি তার অবস্থান জানিয়ে আজ রোববার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী ১৯ জানুয়ারি পালনেরও সিদ্ধান্ত হয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর উল্লেখ করে তার মুক্তির দাবিতে ‘কার্যকর আন্দোলন’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। বৈঠকে সদ্য প্রয়াত ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ ও জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

স্ক্যাইপেতে যুক্ত হয়ে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মির্জা ফখরুল ছাড়া বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম কাউন্সিলে জাতি হতাশ।

কাউন্সিল থেকে চলমান সংকট উত্তরণে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। গণতন্ত্রহীনতা থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে পারেনি দলটি। তিনি বলেন, জাতির একটা প্রত্যাশা ছিল যে, হয়তো বা গণতন্ত্র উত্তরণের একটা পথ দেখা যাবে। কিন্তু তাদের (আওয়ামী লীগ) সম্মেলনে সেই পথ তারা দেখাতে পারেনি। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক যে উন্নয়ন এবং সংকট উত্তরণে কোনো দিকনির্দেশনা দিতে তারা এ সম্মেলনে ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপির কাউন্সিল কবে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা দল পুনর্গঠনে কাজ করছি।

যত দ্রুত সময়ে সম্ভব এটা শেষ করব। এর মধ্যেই হয়তো বা আমরা কাউন্সিল করতে চেষ্টা করব। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রয়াত উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জিয়া পরিষদের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, আবদুল্লাহিল মাসুদ, অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আবদুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। যুগান্তরের সৌজন্যে

Check Also

তরুণ কবি আহমদ বাসিরের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ

তরুণ কবি আহমদ বাসির ১৮ নভেম্বর রাত ৯টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *