Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / ফজলে হাসান আবেদের মৃত্যুতে ড. ইউনুসের আবেগঘন স্ট্যাটাস

ফজলে হাসান আবেদের মৃত্যুতে ড. ইউনুসের আবেগঘন স্ট্যাটাস

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের মৃত্যুতে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুস। শুক্রবার রাতে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন ফজলে হাসান আবেদ। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্যক্তিগত জীবনে ড. ইউনুস ও ফজলে হাসান আবেদের মধ্যে ছিল চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বন্ধুর না ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় শোকাচ্ছন্ন ড. ইউনুস নিজের ভেরিয়ফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘তুমি আমাদের চিরসাথী’ শিরোনামে এক আবেঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

পাঠকের উদ্দেশে তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো-‘আবেদ চলে গেলো। কিন্তু তাকে বিদায় জানানো সম্ভব হবে না। সে আমাদের চিরসাথী হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে।

সমাজের কোনো পরত নেই যেখানে আবেদের কর্মকান্ডের বাতাস লাগেনি। বাংলাদেশে সমাজের যে বিপুল পরিবর্তন হয়েছে আবেদ তার প্রধান রূপকার। সমাজের যত ভাঙ্গাচোরা অলিগলি, চোরাবালি, অলীক নিয়মনীতির ফাঁদ সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল সবকিছুতে আবেদ তার সৃজনশীল প্রতিভার ছোঁয়া লাগিয়েছে।

এই ছোঁয়া লাগিয়ে সবকিছু পাল্টে দিয়ে তাকে নতুন কাঠামোয় নিয়ে আসাই ছিল আবেদের ব্রত। এটা বললে বোধ হয় বাড়িয়ে বলা হবে না যে, বাংলাদেশের সতেরো কোটি মানুষের মধ্যে খুব কম মানুষই আছেন যিনি জীবনে কোনো না কোনোভাবে আবেদের কর্মকান্ডের সুফল ভোগ করেন নি।

আর তিনি যদি হন বিশাল গ্রাম বাংলার দরিদ্রদের একজন, মহিলাদের একজন তাহলে তো তাকে জীবনের প্রতি পদক্ষেপে আবেদের সাক্ষাৎ পেতে হয়েছে – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার, আত্মোপলদ্ধি, আরো অনেক কিছুতে। আমাদের অজান্তে যে-আবেদ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী তাকে আমরা বিদায় জানাবো কীভাবে?

আবেদ বাংলাদেশের গরীব মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির অসাধারণ কারিগর। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক দৈন্যের মুক্তিদাতা। সে নিরবে তার বিশাল কর্মকান্ড গড়ে তুলেছে। সে মানুষকে ডাক দিয়ে বসে থাকেনি, একাই এগিয়ে গেছে। সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে।

সে একাই এগিয়ে গেছে – একেবারে পুরো কাজটা সমাধা করার জন্য।আবেদ সারা বিশ্বে এনজিও-র কনসেপ্ট বদলে দিয়েছে। একটি এনজিও দেশব্যাপী প্রায় সকল সমস্যার সামগ্রিক সমাধান দেবার জন্য এগিয়ে আসতে পারবে এরকম ধারণা ছিল একেবারে অকল্পনীয়।

দেশে বিদেশে অসংখ্য রকম প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচি নিয়ে একটি বিশালায়তনের এনজিও-র ধারণা আবেদই দিয়ে গেলো। তার চাইতেও তার বড় অবদান একক এনজিও ও বহুমাত্রিক এনজিও-র ব্যবস্থাপনাকে একটা নতুন বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়ে যেতে পারা। এই অবদান তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

ভারত পাকিস্তান নেপাল শ্রীলংকার অর্থনৈতিক গবেষকদের কাছ থেকে বরাবরই একটি প্রশ্ন আসে: বাংলাদেশে যে যা-ই করে সেটা দেশব্যাপী করে ফেলে – আমাদের দেশে এরকম হয়না কেন? আমার বরাবরের জবাব ছিল তোমাদের দেশে ত এখনো আবেদের জন্ম হয়নি।আবেদ একটি আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ তৈরী করে দিয়ে গেছে।

তার দুরন্ত সাহস, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতার কাহিনী আগামী সকল প্রজন্মকে অনবরতভাবে শক্তি যুগিয়ে যাবে। বহু প্রজন্ম পরেও আবেদ তাদের কাছে বাংলাদেশ হয়ে বেঁচে থাকবে। তুমি যে-বাংলাদেশ বানিয়ে দিয়ে গেছো তার বুনিয়াদের উপর দ্রুত আমাদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব নেয়া পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সহজ হলো।আবেদ, তোমার কাছে জাতি চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকবে।যুগান্তর

Check Also

যে কারণে ভুটানের ভেতরে চীনের আধুনিক গ্রাম নিয়ে ভারতে তোলপাড়!

ভুটানের সীমান্তের অভ্যন্তরে চীনের একটি আধুনিক গ্রাম নির্মাণ ও সেখানে চীনা নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাস করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *