Breaking News
Home / জাতীয় / বঙ্গবন্ধুর মতো হাসিনাও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী: লন্ডনে সমাবেশে তারেক রহমান

বঙ্গবন্ধুর মতো হাসিনাও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী: লন্ডনে সমাবেশে তারেক রহমান

বিশেষ প্রতিনিধিঃ এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বকেও বললেন অবৈধ। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সুশীল সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তারেক রহমান।

যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজনে লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েস্ট মিনিস্টার সেন্ট্রাল হলে সুধী সমাবেশ শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় তিনি সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হন। বিএনপির এ কর্মসূচিতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাস, তরুন দলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এবং সাধারণ ব্রিটিশ বাংলাদেশী নাগরিক অংশ নেয়।

সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শাইস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমদের পরিচালনায় সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, নিউহাম কাউন্সিলের কাউন্সিলর আয়েশা চৌধুরী, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমদ, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শাহগীর ভক্ত ফারুক, বাংলাদেশ ওলামা-মাশায়েখ যুক্তরাজ্যের সভাপতি মাওলানা শামসুল হক, লেবার পার্টির এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়া, চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট মুসাব্বির হোসেইন, প্রভাষক আলীয়ার রহমান প্রমুখ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাসনাত হোসেইন (এমডিই), বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মুকিম আহমেদ, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা  ও সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরী, কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন অধ্যাপক ড. একেএমএ মানিক , যুবদল নেতা মোঃ সাকোয়াত হোসেন, বিএনপি নেতা আবু জাফর আব্দুল্লাহ প্রমুখ। সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক এনাম চৌধুরী। সুধী সমাবেশে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসে যোগ দিয়েছেন।

তারেক তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সংবিধান তৈরির পর সরকার গঠনের কথা বলা হয়। কিন্তু দেশে ফিরে সংবিধান তৈরির আগেই জোর করে শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রিত্ব দখল করেন।একইভাবে বর্তমানে তার কন্যা (শেখ হাসিনা) দখল করেছেন এই পদ।

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করা নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনার ঝড় রীতিমতো উপেক্ষাই করে গেলেন তারেক। সেইসঙ্গে করলেন আরেক বিতর্ক-জাগানো মন্তব্য, শেখ মুজিব ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অবৈধ প্রধানমন্ত্রী; আর তাঁর কন্যা হলেন আজকের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী।তারেক প্রশ্ন রেখে বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি প্রথম রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি কেন আবার প্রধানমন্ত্রী হলেন?পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সমালোচনা করে তারেক বলেন, পাকিস্তানি পাসপোর্ট ছাড়া কি দেশে ফেরা যেত না? শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি বলেও মন্তব্য করেন তারেক।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। শহীদ জিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রপতি উলেস্নখ করে বক্তব্য দেয়ায় তার বিরম্নদ্ধে তীর্যক সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন শাসক দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। সরকার প্রধান ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাও তারেক রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।

জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করায় আওয়ামী লীগের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেন তারেক। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতারা পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তা খুবই ন্যক্কারজনক। তারেকের মতে, জিয়াই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, এটিই বাস্তবতা। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোনো যুক্তি ও তথ্য প্রমাণ ছাড়া এর বিরোধিতা করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে।মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান চারশ’ টাকার বেতনভোগী কর্মচারী ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করা মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তারেক বলেন, শেখ হাসিনা এমন মন্তব্য করে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করেছেন। এই মন্তব্য প্রত্যাহার করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা প্রার্থনার পরামর্শ দেন তিনি।

Check Also

কাজে আসছে না ডিজিটালি দেয়া আইএসবিএন

দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটালি দেয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক মান পুস্তক সংখ্যা (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বুক নাম্বার : …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *